News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:০৪, ২৫ মার্চ ২০২৬

ভল্ট থেকে বাজারে ফিরছে শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নোট

ভল্ট থেকে বাজারে ফিরছে শেখ মুজিবের ছবিযুক্ত নোট

ফাইল ছবি

দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তনের সাথে সাথে মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় আবারও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে সিলগালা করে রাখা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিযুক্ত পুরনো ডিজাইনের নোটগুলো আবারও বাজারে ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে নবনির্বাচিত সরকার। মূলত নতুন নোট ছাপানোর পেছনে বিশাল অঙ্কের আর্থিক অপচয় বন্ধ এবং বাজারে নগদ অর্থের তীব্র সংকট নিরসনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত জুলাই অভ্যুত্থানের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে শেখ মুজিবের ছবি সম্বলিত নোটগুলো বাজার থেকে পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই সময় নোটের নকশা পরিবর্তন এবং নতুন নোট ছাপানোর ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ের বিষয়টি সামনে আসলেও রাজনৈতিক কারণে তা পাশ কাটিয়ে নতুন ডিজাইনের নোট ছাপানোর কাজ শুরু হয়। একইসঙ্গে বাজারে থাকা পুরনো নোটগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্টে জমা করে সিলগালা করে রাখা হয়েছিল।

তবে সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণকারী নির্বাচিত সরকার এই প্রক্রিয়াকে ‘জাতীয় সম্পদের অপচয়’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই মুহূর্তে নতুন করে কয়েক হাজার কোটি টাকার নোট ছাপানো দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছিল। তাই নতুন নোট ছাপানোর দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও খরচ এড়াতে ভল্টে মজুদ থাকা পুরনো কিন্তু ব্যবহারযোগ্য নোটগুলো ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন: ১১ জুন সংসদে নতুন বাজেট উপস্থাপন

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাজারে বর্তমানে সব ধরণের নোটের, বিশেষ করে ৯টি প্রধান ডেনোমিনেশনের (মূল্যমান) নোটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন ডিজাইনের নোট ছাপানোর কাজ শুরু হলেও তা চাহিদার তুলনায় ছিল অত্যন্ত সামান্য। ফলে বাজারে নতুন নোটের সরবরাহ কম থাকায় সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক লেনদেনে চরম বিড়ম্বনা তৈরি হচ্ছিল। অনেক ক্ষেত্রে খুচরা সংকটের কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল।

এই বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, ভল্টে বন্দি থাকা সচল নোটগুলো বাজারে ছাড়লে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অর্থের তারল্য প্রবাহ স্বাভাবিক করা সহজ হবে। যেহেতু আগের নোটগুলো আইনত বাতিল বা অকেজো ঘোষণা করা হয়নি, তাই এগুলো বাজারে চালাতে আইনি কোনো বাধাও নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন মূল্যমানের নোটের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে দ্রুত নতুন নোটের জোগান দেওয়া কারিগরি ও অর্থনৈতিক কারণে সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আগের ডিজাইনের নোট মজুত রয়েছে এবং সেগুলো আইনত বৈধ। জনভোগান্তি কমাতে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে আমরা পর্যায়ক্রমে এই নোটগুলো ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ইস্যু করতে শুরু করেছি।

ইতোমধ্যেই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন ব্যাংক শাখা ঘুরে দেখা গেছে, ভল্ট থেকে অবমুক্ত করা পুরনো ডিজাইনের নোটগুলো গ্রাহকদের মাঝে বিনিময় করা হচ্ছে। 

ব্যাংকাররা বলছেন, ভল্টে বন্দি থাকা কয়েক হাজার কোটি টাকা এখন মূল ধারার অর্থনীতিতে যুক্ত হচ্ছে, যা বাজারের নগদ অর্থের সংকট কাটাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়