News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৫৩, ২৬ মার্চ ২০২৬
আপডেট: ০৮:৫৪, ২৬ মার্চ ২০২৬

সীতাকুণ্ডে চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ৬শ যাত্রী

সীতাকুণ্ডে চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ৬শ যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত

মহান স্বাধীনতা দিবসের সকালে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন ঢাকাগামী ‘চট্টলা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের কয়েকশ যাত্রী। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী সংলগ্ন ফৌজদারহাট বিএমএ গেট এলাকায় ট্রেনটির পাওয়ার কার ও একটি যাত্রীবাহী বগিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুটি বগি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

রেলওয়ে ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ১৬টি বগিতে ৬ শতাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয় চট্টলা এক্সপ্রেস। ট্রেনটি নির্ধারিত সময় সকাল ৬টায় ছাড়ার কথা থাকলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায় ৩০ মিনিট বিলম্বে যাত্রা শুরু করে। সকাল পৌনে ৭টার দিকে ফৌজদারহাট এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ ইঞ্জিনের ঠিক পেছনের অংশে অবস্থিত পাওয়ার কারে (বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ইউনিট) আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পাওয়ার কার থেকে সংলগ্ন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) যাত্রীবাহী বগিতে ছড়িয়ে পড়ে।

ট্রেনের বগি থেকে দাউ দাউ করে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ট্রেনটি বিএমএ গেট এলাকায় থামলে যাত্রীরা দ্রুত হুড়োহুড়ি করে নিচে নেমে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কুমিরা ও ফৌজদারহাট ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। সেনাবাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অগ্নিকাণ্ডে পাওয়ার কার ও একটি যাত্রীবাহী বগি মারাত্মকভাবে পুড়ে গেলেও যাত্রীরা দ্রুত নেমে যেতে পারায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আরও পড়ুন: ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পদ্মায়, নিখোঁজ ৪৫

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনের পাওয়ার কারের যান্ত্রিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ৪ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কুমিরা ফায়ার স্টেশনের সাব-অফিসার আহসান আলী জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। 

এদিকে, দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হলেও ক্ষতিগ্রস্ত বগি দুটি সরিয়ে লাইন সচল করার কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এবং দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট রেল কর্মকর্তারা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়