News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩৪, ২৭ মার্চ ২০২৬

‘জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক, সংকটের পেছনে কালোবাজারি’

‘জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক, সংকটের পেছনে কালোবাজারি’

ছবি: সংগৃহীত

দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে বলে আশ্বস্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তবে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এক শ্রেণির কালোবাজারি তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় নির্মাণাধীন ৬৮ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় তিনি চলমান জ্বালানি পরিস্থিতি এবং সরকারের নেওয়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

তিনি জানান, ইরানকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষ হঠাৎ করে বেশি পরিমাণে জ্বালানি তেল সংগ্রহের চেষ্টা করছে। এর ফলে আগে যে পরিমাণ তেল একটি পাম্পে দিনে বিক্রি হতো, এখন তা দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী ব্যাখ্যা করে বলেন, পেট্রোল পাম্পগুলোর নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতা রয়েছে। চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই সেগুলো দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি নেই বলে তিনি দাবি করেন। 

তার ভাষায়, তেল সরবরাহ সবসময়ই আছে, কিন্তু হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার মধ্যে দুর্নীতি ও কালোবাজারির প্রভাব রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সারা দেশে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় মজুতদারি ও কালোবাজারির ঘটনা ধরা পড়ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও আশ্বস্ত করেন মন্ত্রী। 

আরও পড়ুন: ভারত থেকে পাইপলাইনে এলো ৫ হাজার টন ডিজেল

তিনি বলেন, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে এবং বর্তমানে কোনো লোডশেডিং নেই। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার সরকারি বক্তব্যের বিপরীতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বহু ফিলিং স্টেশন বন্ধ রয়েছে এবং যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। বাস, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে জ্বালানি পাওয়ার আশায়।

এই পরিস্থিতির মধ্যে পাম্প মালিক সমিতি সতর্ক করে জানিয়েছে, ক্রেতারা সংযত না হলে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পাম্পগুলোতে তেল সংকট তীব্র আকার নিতে পারে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে অপ্রয়োজনীয় মজুত না করে সীমিত পরিমাণে তেল কেনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, সম্ভাব্য চাপ মোকাবিলায় সরকারও পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে তিন লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার সরকারি ছুটির দিনে অনুষ্ঠিত ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় জানানো হয়, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ক্রয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরাসরি দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডিজেল আমদানি করা হবে। এর মধ্যে এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড থেকে এক লাখ মেট্রিক টন এবং সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড থেকে দুই লাখ মেট্রিক টন ডিজেল কেনা হবে।

সব মিলিয়ে, সরকারি হিসেবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ বেড়ে যাওয়া চাহিদা, মজুতদারি এবং বাজারে আতঙ্কজনিত আচরণের কারণে বাস্তব পরিস্থিতিতে চাপ তৈরি হয়েছে যা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক নজরদারি ও আমদানি উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়