News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৩৬, ২৭ মার্চ ২০২৬

‘জ্বালানি তেলে দৈনিক ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার’

‘জ্বালানি তেলে দৈনিক ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার’

ছবি: সংগৃহীত

জনগণের ভোগান্তি লাঘব ও নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেল খাতে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম (অমিত)। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং প্রায় ৮০টি দেশে তেলের মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার এখনই দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা সত্ত্বেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর নীতিতে অটল রয়েছে, যাতে বিদ্যুৎ, গণপরিবহন ও খাদ্যপণ্যের ব্যয় বৃদ্ধি না পায়।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে সমাজসেবা অধিদপ্তর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য প্রদান করেন। এদিন জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১৫৩ জন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তার অনুদান চেক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিদিন গড়ে ডিজেলের চাহিদা ছিল প্রায় ১২ হাজার টন এবং পেট্রল-অকটেনের চাহিদা ছিল ১,২০০ থেকে ১,৪০০ টন। কিন্তু ঈদের আগে এই চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন ২৪ থেকে ২৫ হাজার টন পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে। সরকার আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত জ্বালানির চাহিদা পূরণে সক্ষম হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতের জন্য ৯০ দিনের জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক, সংকটের পেছনে কালোবাজারি’

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব সব নাগরিকের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভাতা কর্মসূচি চালু হয়, যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকার সম্প্রসারণ করেছে। তবে গত ১৫ বছরে প্রকৃত উপকারভোগীরা বঞ্চিত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে যশোর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি সরাসরি মানুষের কাছে গিয়ে তাদের বঞ্চনার কথা শুনেছেন। ভবিষ্যতে যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরাই ভাতা পান এবং বাছাই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় প্রাধান্য না পায়, সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হয়েছে, ধর্মগুরুদের জন্য সম্মানী চালু করা হয়েছে এবং পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনগণ যদি প্রতিবেশী ও আত্মীয়ের অধিকার নিশ্চিত করে, তবে সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা কমে আসবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ১৫৩ জন দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তির হাতে এককালীন আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন (খোকন), পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, প্রেসক্লাব সভাপতি জাহিদ হাসান (টুকুন) এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক হারুন অর রশিদসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়