News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৩১, ২৭ মার্চ ২০২৬

‘ক্রেডিটের লোভে একাত্তরের ইতিহাস বিকৃত চলবে না’

‘ক্রেডিটের লোভে একাত্তরের ইতিহাস বিকৃত চলবে না’

ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাসকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করা চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ। 

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ইতিহাস মানেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ইতিহাস। আর বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন হলো স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণকে মুক্ত করার ইতিহাস।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জানে ও শুনে এসেছে যে স্বাধীনতার ঘোষণা কালুরঘাট থেকেই প্রচারিত হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে যখন পাক হানাদার বাহিনী রাজারবাগসহ বিভিন্ন স্থানে গণহত্যা শুরু করে, তখনই চট্টগ্রাম থেকে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। দালিলিকভাবে প্রমাণিত যে, ২৭ মার্চ তিনি 'প্রভিশনাল হেড অব দ্য স্টেট' হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তাঁর সেই আহ্বানের মাধ্যমেই মূলত স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। এটি আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত এক ধ্রুব সত্য।

আরও পড়ুন: নতুন চেহারায় হাজির হয়েছে একাত্তরের অপশক্তি: মির্জা ফখরুল

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করে সালাহউদ্দীন আহমদ বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থেকে তারা স্বাধীনতার মিথ্যা দলিল ও বয়ান তৈরি করেছে। সব অর্জনকে কেবল 'হাসিনার বাবার' একক কৃতিত্ব হিসেবে দেখানোর এক ধরণের প্রবণতা তাদের মধ্যে ছিল। সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে তারা প্রকৃত ইতিহাসকে অস্বীকার করেছে এবং কাউকে কোনো ক্রেডিট দিতে রাজি হয়নি। 

তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ অন্য কারো অবদান স্বীকার করতে চায় না, কিন্তু বর্তমান সরকার সেই ধারায় বিশ্বাসী নয়।

সংবিধানের প্রস্তাবনা সংশোধনের প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, অনেকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান এবং একাত্তরকে সমান করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু একাত্তরের ইতিহাস অনন্য ও অবিসংবাদিত। 

তিনি বলেন, আমরা কারো বিজয় ছিনিয়ে নিতে চাই না, কারো ভূমিকাকে কেড়ে নিতে চাই না। তবে সবাইকে মিলে আগে একাত্তরকে সম্মান জানাতে হবে। একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মিলবে না। এরপর আসবে পঁচাত্তর, নব্বই বা চব্বিশের প্রসঙ্গ।

তিনি আরও বলেন, ছাত্র-জনতার চব্বিশের অভ্যুত্থান আমাদের স্বৈরাচারমুক্ত করেছে ঠিকই, কিন্তু রাষ্ট্র এখনও পুরোপুরি নতুন করে বিনির্মিত হয়নি। এখন মূল লক্ষ্য হলো একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক দেশ গঠন করা। তবে এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের অবদানকে সরকার যথেষ্ট উদারতার সাথে স্বীকার করে।

বিএনপির লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশে বহুদলীয় সংসদীয় রাজনীতি প্রবর্তনে বিএনপির অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে ৯০-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্রের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। বিএনপি সবসময়ই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা পালন করেছে।

বক্তব্যের শেষে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার সংসদীয় রাজনীতির চর্চা এবং আলোচনার মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা জরুরি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়