News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:০২, ২৬ মার্চ ২০২৬

ক্ষমা না চেয়ে নতুন বয়ান দিচ্ছে জামায়াত: ছাত্রদল সভাপতি

ক্ষমা না চেয়ে নতুন বয়ান দিচ্ছে জামায়াত: ছাত্রদল সভাপতি

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির ১৯৭১ সালের বিতর্কিত ভূমিকা অস্বীকার করে এবং জাতির কাছে ক্ষমা না চেয়ে উল্টো একটি নতুন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। 

তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তিও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিজেদের মতো করে ভিন্ন বয়ান দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে পারে, যার প্রাথমিক লক্ষণ ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সদস্যবৃন্দ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল এবং ঢাকা জেলা ছাত্রদলসহ বিভিন্ন স্থানে শহীদদের স্মরণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। 

তিনি উল্লেখ করেন, এই কর্মসূচিগুলোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় জীবনের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা প্রকাশিত হয়েছে।

রাকিব বলেন, জাতীয় জীবনে যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, সেই স্বাধীনতার প্রকৃত প্রত্যাশা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। একটি ক্ষুধামুক্ত, বৈষম্যহীন, সত্যিকারের স্বাধীন এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে একটি ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বিদায় জানাতে প্রায় দুই হাজারেরও অধিক ছাত্র-জনতাকে জীবন দিতে হয়েছে। তারপরও আমরা সেই পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার স্বাদ পুরোপুরি অর্জন করতে পারিনি। নতুন নতুন বাস্তবতা ও সংকট দেশে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতা দিবসে জাপা-ছাত্রশক্তি উত্তেজনা

তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নতুন সরকারের অগ্রযাত্রায় সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনে কাজ করার আহ্বান জানানো যায়। সেখানে অবশ্যই বিরোধিতা থাকবে, তবে তা হবে যৌক্তিক বিরোধিতা; কোনোভাবেই বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার মতো বিরোধিতা নয়। এমন কোনো কার্যক্রমে আমরা অংশগ্রহণ করব না, যা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব বা গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

রাকিবুল ইসলাম রাকিব বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা এই বাংলাদেশ পেয়েছি। তাদের অবদান আমরা কখনোই ভুলব না। যুগের পর যুগ, শতাব্দীর পর শতাব্দী আমরা তাদের এভাবেই স্মরণ করব।

তিনি ইতিহাস বিকৃতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। 

রাকিব বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল, যাদের ১৯৭১ সালে ভূমিকা ছিল বিতর্কিত, তারা মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছে, স্লোগান দিচ্ছে এবং বক্তব্য দিচ্ছে। কিন্তু ২৫শে মার্চের সেই কালরাত্রি নিয়ে তাদের কোনো অনুশোচনা নেই। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে আমাদের মা-বোনদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছে, সেসবের পেছনে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর ভূমিকা ছিল, যার ইতিহাস আজ বিকৃত করার চেষ্টা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এই ইতিহাস বিকৃত করে যদি কেউ নতুন করে বয়ান তৈরি করতে চায় এবং মনে করে ১৯৭১ বা ২৬শে মার্চকে নিজেদের মতো করে উপস্থাপন করবে, তাহলে তা জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী। একটি রাষ্ট্র যুগের পর যুগ এভাবে চলতে পারে না। তাই সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন ইতিহাসের প্রতি নিজেদের দায় স্বীকার করে, সত্যকে মেনে নেয়। এরপর তারা রাজনীতি করুক এতে কোনো সমস্যা নেই। যদি এই বিচ্যুতি অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়েও ইতিহাস বিকৃতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়