News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:১৬, ১৯ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ১২:৪৯, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

প্রসূতির মৃত্যুর পরও চিকিৎসকদের রেফার্ড নাটক!

প্রসূতির মৃত্যুর পরও চিকিৎসকদের রেফার্ড নাটক!

মাদারীপুর: স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশন টেবিলে প্রসূতির মৃত্যু হলেও তাকে জীবিত দেখিয়ে রেফার্ড নাটক সাজানোর অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তুলেছে প্রসূতির আত্মীয়-স্বজনরা।

তারা জানায়, উত্তর বহেরাতলা ইউনিয়নের সোতারপার ভেন্নাতলা গ্রামের আব্দুল হক দড়ির মেয়ে সাবিনা আক্তারকে (২৫) সিজারের জন্য শনিবার দুপুর ১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। বেলা সোয়া ১টায় তাকে অপারেশন থিয়েটারে ঢোকানো হলে এনেস্থিসিয়া দিয়ে তাকে অজ্ঞান করেন ডা.আব্দুল মোতালেব। এরপর ডা. বিনয়কৃষ্ণ গোলদার সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তান বের করে আনেন।

প্রসূতির আত্মীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, সিজারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও ভুল চিকিৎসায় মারা যান সাবিনা আক্তার। এ ঘটনার দায় এড়াতে চিকিৎসকরা প্রায় দু’ঘণ্টা সাবিনার মৃতদেহ অপারেশন থিয়েটারে রাখে। এরই মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মোতালেব, আরএমও ডা. রাজিব ও কনসালটেন্ট ডা. বিনয়কৃষ্ণ গোলদার রোগীর অবস্থা গুরুতর উল্লেখ করে মৃত সাবিনাকে জীবিত দেখিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।

সূত্র জানায়, বেলা আড়াইটায় লাশ শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সে তুলে হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় মনির হোসেনকে দিয়ে ফরিদপুরের উদ্দেশে পাঠানো হয়। লাশের সঙ্গে এসময় ছিলেন, সাবিনার ভগ্নিপতি নান্নু ও বোন আসমা আক্তার। চিকিৎসকদের চাতুরির ব্যাপারটি বুঝতে পেরে ফরিদপুর না গিয়ে তারা অ্যাম্বুলেন্স ঘুরিয়ে বাড়ির দিকে নিয়ে যান।

সূত্র আরো জানায়, এ ঘটনা মুহূর্তে চারদিক ছড়িয়ে পড়লে মেডিপ্যাথ ক্লিনিকের মালিক ফজলুল হক, শিবচর নার্সিং হোমের মালিক আবুল খায়ের খান, ইবন সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক আপেল মাহমুদ হাসপাতালে এসে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য টিএইচওর বাসায় রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় সাবিনার পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, তবে এক্ষেত্রে তারা শর্ত জুড়ে দেন যে, রোগীর আত্মীয়-স্বজন কোনো অবস্থাতে এ ঘটনা গণমাধ্যম ও পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে পারবে না। এ ঘটনা প্রকাশ না করতে তাদেরকে শাসানোও হয়।

মৃত সাবিনার বড় বোন আসমা আক্তার নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ওয়ার্ডবয় মনির হোসেনের সাথে সাবিনার সিজারের জন্য আট হাজার টাকা চুক্তি হয়। কিন্তু আমরা জানি, সরকারি হাসপাতালে কোনো টাকা-পয়সা লাগে না। এরপরও তারা আমাদের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা নিয়েছে। ডাক্তাররা ভুল চিকিৎসা করে আমার বোনকে মেরে ফেলেছে। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

সাবিনার ভগ্নিপতি নান্নু মিয়া নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “সাবিনাকে অপারেশন রুমে নেয়ার আগে তাকে সিজার করার জন্য ৮ হাজার টাকা চুক্তি করে ডাক্তার। ওই টাকা শুধু অপারেশন বাবদ তাদের দিতে হবে। প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র আমাদেরই কিনে দিতে হবে। কিন্ত অপারেশন রুমে নিয়ে সিজার করার কিছুক্ষণ পরই সাবিনা মারা যায়।”

তিনি আরো বলেন, “পরে তড়িঘড়ি করে লাশ অপারেশন রুম থেকে নামিয়ে একটি গাড়িতে তুলে দিয়ে আমাদেরকে ফরিদপুর নিয়ে যেতে বলা হয়। সাবিনা মারা গেছে, এটি বুঝতে পেরে আমরা লাশ বাড়ি নিয়ে চলে আসি। সন্ধ্যায় লাশ দাফন করি।”

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মোতালেব মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “সাবিনা অপারেশনের সাথে সাথে আমাদের হাতেই মারা গেছে। বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি।”

মাদারীপুর সিভিল সার্জন ডা. দিলীপ কুমার রায় মুঠোফোনে নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “আমি এখন মিটিংয়ে আছি। এ ব্যাপারে পরে কথা বলব।” কিন্তু পরে তিনি আর কথা বলেননি।
 
নিউজবাংলাদেশ.কম/এটিএস

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়