সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত দু’একদিনের মধ্যেই: সিইসি
ঢাকা: তিন সিটি নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে দু’একদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, “কোনো ভোট কেন্দ্রে কেউ বল প্রয়োগ করলে, তার বিরুদ্ধে দ্বিগুণ বল প্রয়োগ করা হবে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে সব ধরনের প্রস্তুতি হাতে নেয়া হয়েছে।”
রোববার দুপুরে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (এইসি) সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সোয়া ১১টায় এ বৈঠক শুরু হয়।
সিইসি বলেন, “নির্বাচনে সেনা মোতায়েন হবে কি না সে বিষয়ে দু’একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় আছে। তবুও সব বাহিনীকে এদিকে খেয়াল রাখতে বলেছি। আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা নেবো।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাইকে প্রস্তুত থাকতে বলেছি। কাউকে কোনো চান্স নিতে দেব না। কেবল প্রার্থীদের কথা না, ভোটারদের কথাও চিন্তা করছি আমরা। প্রার্থী তো কয়েকজন কিন্তু ভোটার অনেক। সবাই যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে ফিরে আসতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করবো। কেউ কোনো চান্স নিতে চাইলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বৈঠকে বিভিন্ন বাহিনী প্রধানরা সেনা মোতায়েনের বিষয়ে মতামত দিয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব আমরা। কারও বলার ওপরে সিদ্ধান্ত নিই না। পরিস্থিতি কী সেটা শুনতে চেয়েছি। তারা আমাদের জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি ভালো। তবে দু’একদিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
গণমাধ্যমের উদ্দেশে কাজী রকিব বলেন, “আচরণবিধি লঙ্ঘণের ঢালাও অভিযোগ তুলে লাভ নেই। আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেব। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন আপনাদের নৈতিক ও প্রফেশনাল দায়িত্ব। আপনাদেরকে প্রতিদিন রিটার্নিং অফিসাররা তথ্য দিচ্ছেন। কতোজনকে সতর্ক করা হচ্ছে, কতোজনকে জরিমানা করা হচ্ছে, তা জাতির সামনে তুলে ধরবেন।”
তিনি আরও বলেন, “ইতোমধ্যে অনেক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের সতর্ক করেছি। তারা অনেকেই ক্ষমা চেয়েছে। এসব বিষয়ে পুনরাবৃত্তি হলে শাস্তি দেব। পাশাপাশি মিডিয়ার কাছ থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো তথ্য পেলে রিটার্নিং অফিসার সেগুলো যাচাই করে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেবে।”
বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, বৈঠকে উপস্থিত অধিকাংশই এ নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে মতামত দেয়নি। তাদের মতে, নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। বৈঠক থেকে বেরিয়ে র্যাবের অতিরিক্ত মহা পরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেন, “সেনা মেতায়েনের প্রয়োজন নেই। সেনাবাহিনীকে মানুষ নামে ভয় পায় আর র্যাবকে কাজে ভয় পায়।”
ইসি সচিব সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক, আবু হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাবেদ আলী, শাহ নেওয়াজ, সেনাবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু বেলাল মো. সফিউল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রমুখ।
এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, তিন সিটির রিটার্নিং অফিসাররা এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএ/এটিএস/এজে
নিউজবাংলাদেশ.কম








