পঞ্চগড়ে অগ্নিকাণ্ড
পুড়ে ছাই ৪৫টি ঘরবাড়ি, কোটি টাকার সম্পদ
পঞ্চগড়: জেলা সদরের চাকলাহাট এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৬টি পরিবারের প্রায় ৪৫টি ঘরবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে পুড়ে এসময় নষ্ট হয়েছে প্রায় কোটি টাকার সম্পদ।
বৃহস্পতিবার রাতে চাকলাহাট ইউনিয়নের নুনিয়াপাড়া গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে শৈলেন রায়ের ছেলে অক্ষয় কুমার রায়ের রান্নাঘর থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এরপর মুহূর্তে তা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি ঘেঁষে থাকা বাড়িগুলোর মধ্যে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে এরই মধ্যে ১৬টি পরিবারের প্রায় ৪৫টি টিনশেড ও খড়ের ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ সময় নতুন একটি মোটর সাইকেল, দুটি বাইসাইকেল, একটি ল্যাপটপ, চারটি ছাগল, হাঁস-মুরগি, ধান-চাল, নগদ চার লাখ টাকা ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বইখাতাসহ প্রায় কোটি টাকার সম্পদ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
এদিকে আগুনে বিয়ের যৌতুকের টাকা ও মোটর সাইকেল পুড়ে যাওয়ায় দিশেহারা কবিতা রাণী রায়ের পরিবার। বাবা শচীন রায় জীবিত না থাকায় তার কাকা দীপেন রায় কষ্ট করে ভাইয়ের মেয়েকে বিয়ে দিতে যৌতুকের টাকা জোগার করেছিলেন। সেই টাকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
ডোমার উপজেলার বরাগাড়িতে তার বিয়ে ঠিক হয়েছিল। এখন কী দিয়ে কবিতাকে বিয়ে দেবেন এই ভেবে কোনো কূলকিনারা পাচ্ছেন না দীপেন। অসহায় চোখে এখন চারপাশ দেখছেন তিনি।
স্নাতক (ডিগ্রি) প্রথম বর্ষের পরীক্ষার্থী লিপু রাণী রায়ের সকল বইখাতা আগুনে পুড়ে গেছে। নিজের বইখাতা পুড়ে যাওয়ায় অঝোরে কাঁদছেন তিনি। নিউজবাংলাদেশকে তিনি বলেন, “১৮ এপ্রিল আমার ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এর দুদিন আগে আমার সব বই পুড়ে ছাই হয়ে গেল। এখন কীভাবে পরীক্ষা দেব ভেবে পাচ্ছি না।”
পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউজ ইন্সপেক্টর আব্দুল মালেক নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “স্থানীয় এক পরিবারের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।”
সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা মুনতাজরী দীনা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেছেন।
লায়লা মুনতাজরী দীনা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে ৪২ হাজার টাকা, কম্বল, গেঞ্জি ও পরিবার প্রতি ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/এটিএস
নিউজবাংলাদেশ.কম








