থানা যেখানে বিনোদনকেন্দ্র
গাইবান্ধা: গাইবান্ধা জেলার একটি অবহেলিত উপজেলার নাম সাদল্যাপুর। স্বাধীনতার ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও চিত্ত বিনোদনের জন্য এ উপজেলায় গড়ে উঠেনি কোনো বিনোদন কেন্দ্র। তাই সাদুল্যাপুর থানাকেই বিনোদন কেন্দ্র রূপে গড়ে তুলছেন এক তারুণ্যোজ্জ্বল পুলিশ কর্মকর্তা।
২০১৩ সালের ২৫ আগস্ট সাদুল্যাপুর থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পদে যোগদান করেন বিনোদনপ্রেমি তারুণ্যোজ্জ্জ্বল জিয়া লতিফুল ইসলাম। তিনি এ এলাকার শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষসহ আপামর জনগণের জন্য উপজেলা পরিষদের আর্থিক সহযোগিতায় থানার ভেতর বিনোদনের ব্যবস্থা নেয়ার কাজ শুরু করেন।
তিন একর জমির চারপাশে প্রাচীর বেষ্টিত সাদুল্যাপুর থানা। সাধারণ মানুষের প্রবেশের জন্য দক্ষিণ পাশে রয়েছে থানা গেট। গেটের ১০ গজ উত্তরেই থানা ভবনটি অবস্থিত। ভবনের ১৫ গজ পূর্বে দুই বিঘা পরিমাণ জমিতে রয়েছে দৃষ্টিকাড়া একটি জলাশয় পুকুর। সর্বসাধারণের ব্যবহারযোগ্য ওই পুকুরে রয়েছে দুটি ঘাট। পুকুরের চারপাশে শোভাবর্ধনে রোপণ করা হয়েছে নানা প্রজাতির ফুল গাছ। এসব গাছের ফুটন্ত ফুলে সুরভিত হয়ে উঠেছে সাদুল্লাপুর থানা এলাকা। পুকুরের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে দর্শনার্থীদের প্রবেশ পথেই রয়েছে নজরকাড়া দুটি সিংহের মূর্তি। ভেতরে ঢুকতেই দেখা যায় খাঁচায় আবদ্ধ চায়না ঘুঘু, বাজারীকা, কেমা, চড়ই, গাংচিল ও কবুতরসহ ৩০ প্রজাতির পাখি। আর এসব পাখির কিচির-মিচির শব্দে মুখরিত হয় আগত পরিবেশ।
এছাড়াও রয়েছে খরগোশ ও বেনীপোষসহ বেশ কয়েক প্রজাতির পশু। ভাস্কর্যের মধ্যে রয়েছে সিংহ, জেব্রা-জিরাফ, হরিণ, কুমির, ব্যাঙ, সাপ, বক, উড়ন্ত পরী ইত্যাদি। শিশু-কিশোরদের বিনোদন আকর্ষণীয় করতে রাখা হয়েছে ঝুলন্ত দোলনা ও স্লিপার। পুকুরে ভাসমান শাপলা, পদ্মের পাশ ঘেঁষে ডিঙ্গি নৌকাসহ আরো অনেক চিত্ত বিনোদনের উপকরণ।
এছাড়াও থানা চত্বরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে কদবেল, জলপাই, আম, জাম, লিচু, নারিকেল, কাঠাল, পেঁপে ও নানা প্রজাতির ফলদ, বনজ এবং ওষুধি বৃক্ষ। এসব বৃক্ষের ছায়ার নিচে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে বসার ব্যবস্থা। কৃত্রিম চিড়িয়াখানাসহ আরো রয়েছে চিত্ত বিনোদনের নানা উপকরণ। সর্বোপরি সৌন্দর্যে ভরা সাদুল্যাপুর থানাটি এখন বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হতে চলছে।
সম্প্রতি উপজেলার গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে সাদুল্যপুর থানাটি ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে বলে জানালেন কিছু সংখ্যক দর্শনার্থী। ইদানিং দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দর্শনার্থীরা বিনোদনের জন্য পরিবারের সদস্য কিংবা শিশু-কিশোরদের নিয়ে বেড়াতে আসছেন এখানে। সারাদিনই এখানে ছুটে আসছে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও শিশু-কিশোররা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ
নিউজবাংলাদেশ.কম








