তিস্তা সেতুর বাঁধে ধস, ৭০ ফুট গভীর গর্ত
ছবি: সংগৃহীত
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত দ্বিতীয় সড়ক সেতুর পশ্চিম তীরের সুরক্ষা বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার এলাকা ধসে পড়েছে। এতে বাঁধে প্রায় ৭০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোতের ধাক্কায় বাঁধের নিচের মাটি ধুয়ে নিচে চলে যাচ্ছে। বর্তমানে বাকি ব্লকগুলোও ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তিস্তার পশ্চিম তীরের প্রায় ৯০০ মিটার দীর্ঘ বাঁধের বিভিন্ন অংশ তীব্র স্রোতের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো বাঁধ ভেঙে সেতু ও সংলগ্ন লালমনিরহাট–রংপুর সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মহিপুর এলাকার বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, গত দুই বারের বন্যায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এবার নদীতে পানি আসা মাত্রই ৬০ মিটার বাঁধ ধসে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে তিন গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবার ও সেতুটি ঝুঁকিতে পড়েছে।
আনসার আলী আরও জানান, নদীর পানি বাড়া-কমাতে ভাঙন শুরু হয়েছে। সেতু রক্ষা বাঁধ ভাঙছে। এলাকার জমিগুলোও ভেঙে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা প্রজেক্টের কথা শোনার পরও কিছু হয়নি।
২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১২১ কোটি টাকা ব্যয়ে মহিপুরে দ্বিতীয় সড়ক সেতুটি নির্মাণ করে, যা রংপুর–লালমনিরহাট জেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজ করেছে। তবে বর্তমান ভাঙন নিয়ন্ত্রণে না এলে সেতু ও সংলগ্ন সড়ক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
আরও পড়ুন: উদ্ধার ১২ হাজার ঘনফুট সাদা পাথর নদীতে ফেরত
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, উজানে আরও বৃষ্টি হলে বাঁধ ভেঙে গেলে পানি সরাসরি লালমনিরহাট–রংপুর সড়কে আঘাত করবে। এতে ৩০ লাখ মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে এবং তিনটি গ্রামের অন্তত দেড় হাজার পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, পানি ঢুকে পরিবারের সদস্যরা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিনবিনা, শখের বাজার, খলাইর চর, মটুকপুর, আবুলিয়া, চিলাখাল এলাকার মানুষগুলো বিশেষভাবে বিপদে রয়েছেন।
মর্ণেয়া ইউনিয়নের আনছারটারী এলাকার আলেফ উদ্দীন জানিয়েছেন, বসতবাড়ি ডুবে গেছে, গবাদিপশুর চারণভূমি পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। নোহালী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের পরিবারও পানিবন্দি।
পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ইউনিয়নের শিবদেব গ্রামে নদী ভাঙনের কারণে কমপক্ষে ৪৯টি ঘরবাড়ি, একটি ইবতেদায়ি মাদ্রাসা ও একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হারিয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারকে এক বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ৩ হাজার টাকা করে সহায়তা দিয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) পঞ্চগড়ে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুধবারও দিনভর রংপুর ও তিস্তার উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানাচ্ছে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যার ঝুঁকি রয়েছে। একই সময়ে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও পদ্মা অববাহিকার নদ-নদী সতর্ক সীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে এবং পদ্মা নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। তবে স্থানীয়রা স্থায়ী ভাঙনরোধ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে, যাতে প্রতিবছর একই ধরনের ক্ষতির পুনরাবৃত্তি এড়ানো যায়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








