News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:১৯, ২৭ মার্চ ২০২৬

শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল তেহরানের পাকিস্তান দূতাবাস

শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠল তেহরানের পাকিস্তান দূতাবাস

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের রাজধানী তেহরানের কূটনৈতিক এলাকা পাসদারানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পাকিস্তান দূতাবাস এবং রাষ্ট্রদূত মুদাসসির টিপুর বাসভবনের অতি নিকটে এই বিস্ফোরণগুলো আঘাত হানে। 

সরাসরি দূতাবাস প্রাঙ্গণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, ঘটনার আকস্মিকতায় কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতেও সব পাকিস্তানি কূটনীতিক ও কর্মকর্তা নিরাপদ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইসলামাবাদ ও তেহরানের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, বিস্ফোরণের শব্দ ছিল অত্যন্ত জোরালো, যা দূতাবাস ও রাষ্ট্রদূতের বাসভবন পর্যন্ত স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। তবে ভবনগুলোর কোনো দৃশ্যমান ক্ষতি হয়নি। এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, “বিস্ফোরণের শব্দ অনেক জোরে ছিল, কিন্তু আমাদের জানালাগুলোও ভাঙেনি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দূতাবাসের বিপরীতে অবস্থিত একটি ইরানি সামরিক স্থাপনাই হামলার লক্ষ্য ছিল। পাসদারান এলাকা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একাধিক স্থাপনার জন্য পরিচিত হওয়ায় সাম্প্রতিক সংঘাতে এটি বারবার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন: একাত্তরের নৃশংসতা অস্বীকার করায় পাকিস্তানের সমালোচনা ভারতের

ঘটনাটি এমন এক প্রেক্ষাপটে ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় গত ২৮ দিন ধরে তেহরানজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের সূচনা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর। চলমান সংঘাতের ফলে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং বৈশ্বিক তেলের দামে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামাবাদ এ বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং সম্ভাব্য ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

বিস্ফোরণের সময় দূতাবাস প্রাঙ্গণে প্রায় ২০ জন কূটনৈতিক কর্মকর্তা দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও তারা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তাদের কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে এর জবাব ‘দৃঢ়ভাবে’ দেওয়া হবে।

এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তান কাতার নয়; আমাদের সার্বভৌম মিশনের বিরুদ্ধে কোনো হুমকি সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে চলমান সংঘাতে নিরপেক্ষ কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের তীব্রতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কূটনৈতিক অঞ্চলগুলোও আর সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকছে না। আন্তর্জাতিক আইনে দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই নিরাপত্তার পরিধি সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আতঙ্কের মধ্যেও পাকিস্তানি কূটনীতিকরা তাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন এবং ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন। তবে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং বিস্ফোরণের নিকটবর্তীতা কূটনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়