একাত্তরের নৃশংসতা অস্বীকার করায় পাকিস্তানের সমালোচনা ভারতের
ছবি: সংগৃহীত
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত ভয়াবহ গণহত্যার দায় পাকিস্তান আজও অস্বীকার করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে শুরু হওয়া সেই বর্বরোচিত নৃশংসতার ন্যায়বিচার পেতে বাংলাদেশের যে দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা, তার প্রতি পূর্ণ সংহতি ও সমর্থন জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এসব মন্তব্য করেন। ঐতিহাসিক এই দিনে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও পাকিস্তান বাহিনীর নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ১৯৭১ সালে অপারেশন সার্চলাইট চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত পরিকল্পিত ও ভয়াবহ নৃশংসতা সম্পর্কে বিশ্ববাসী অবগত। ওই সময়ে লক্ষ লক্ষ নিরীহ ও নিরস্ত্র বাংলাদেশি মানুষকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। বিশেষ করে নারীদের ওপর ব্যাপক আকারে যৌন অপরাধ ও নির্যাতন চালানো হয়েছিল, যা মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।
আরও পড়ুন: ‘এক যুগে বাংলাদেশে সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার সহায়তা ভারতের’
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানি বাহিনীর সেই চরম বর্বরতার মুখে জীবন বাঁচাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় এক কোটি মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিল। ওই নৃশংসতা তৎকালীন সময়ে বিশ্ববিবেকের মূলে নাড়া দিলেও অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, পাকিস্তান আজও তাদের সেই ঐতিহাসিক অপরাধের কথা স্বীকার করেনি বরং তা অস্বীকার করে চলেছে।
বাংলাদেশ সরকার ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—১৯৭১ সালের এই হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিকভাবে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং এর যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
এই দাবির যৌক্তিকতা সমর্থন করে জয়সওয়াল স্পষ্ট করে বলেন, ন্যায়বিচারের জন্য বাংলাদেশের যে আকাঙ্ক্ষা ও লড়াই, ভারত তার প্রতি সবসময় পূর্ণ সমর্থন জানায়। আমরা এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করছি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের এই প্রকাশ্য সমর্থন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একাত্তরের গণহত্যার স্বীকৃতি আদায়ের পথে বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








