সঠিক ইতিহাস রচনায় পেশাদারদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতিবিদ বা বিচারকদের রায়ে নয়, বরং বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ও গবেষণার ভিত্তিতে পেশাদার ইতিহাসবিদদের মাধ্যমেই দেশের সঠিক ইতিহাস রচিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, রাজনীতিবিদ বা হাইকোর্টের বিচারপতিরা যখন ইতিহাসবিদ হয়ে যান, তখন সেটি আর ইতিহাস থাকে না, বরং প্রোপাগান্ডায় রূপ নেয়। প্রোপাগান্ডা সবসময়ই ক্ষণস্থায়ী, তা কোনোদিন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে হাইকোর্টের বিচারক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছিলেন, তা মূলত রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সঠিক ইতিহাস রচনার নির্দিষ্ট ধারা ও প্রক্রিয়া রয়েছে যা কেবল পেশাদার ইতিহাসবিদদের মাধ্যমেই সম্ভব।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শহীদ জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা ও বিদ্রোহের কথা তাজউদ্দীন আহমদসহ আওয়ামী লীগের বহু নেতার লেখনী, ভারতীয় উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের গ্রন্থ এবং বিশ্ব গণমাধ্যমে সংরক্ষিত সোর্সগুলোতে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। ইতিহাসবিদরা যদি এই সঠিক তথ্যগুলো ব্যবহার করে আগামী দিনের ইতিহাস রচনা করেন, তবে শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান আন্দোলনের নেতা তারেক রহমানের অবদান বুঝতে কারো কষ্ট হবে না বলে তিনি দাবি করেন।
আরও পড়ুন: ইতিহাস খাটো করার চেষ্টা রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর
বিশ্বব্যাপী চলমান জ্বালানি সংকট নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা বর্তমানে একটি 'যুদ্ধ মধ্যবর্তী' যুগের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির উৎসগুলো সাময়িকভাবে বাধাগ্রস্ত হলেও সরকার অত্যন্ত সফলতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমানে দেশে চাহিদার চেয়েও বেশি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, তাই বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার বা গুজব ছড়ানোর কোনো কারণ নেই।
কিছু অসাধু কালোবাজারি অতিরিক্ত তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তিনি নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এ ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সরকার এখনো কঠোর কোনো কৃচ্ছ্রতা সাধন বা রেশনিং পদ্ধতি চালু করেনি, তবে ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখে আমাদের সবাইকে সাশ্রয়ী ও সংযমী হতে হবে।
বর্তমান সরকারের মূল্যায়ন করতে গিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এখন নেশন বিল্ডিং বা দেশ গড়ার পর্যায়ে রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও মানুষের ঈদ যাতায়াত নির্বিঘ্ন করাকে তিনি সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেন। এছাড়া গার্মেন্টস সেক্টরে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা না হওয়াকেও প্রশাসনের দক্ষতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার একাকী সব সমস্যার সমাধান করতে পারবে না; সংকট উত্তরণে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








