জাকার্তার পথে প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা: দ্বিতীয় আফ্রো-এশীয় সম্মেলনে যোগ দিতে তিনদিনের সরকারি সফরে জাকার্তার উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গিদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট মঙ্গলবার সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় ২২ থেকে ২৪ এপ্রিল এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফাযেল আহমেদ, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, পররাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।
এছাড়া মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইঞা, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, পুলিশের মহাপরিদর্শক, কূটনৈতিক কোরের প্রধান এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারাও এসময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন ইন্দোনেশিয়ার বন ও পরিবেশ মন্ত্রী নুরবায়া বাকার এবং জাকার্তার গভর্নর তাজহাইয়া পুমামা।
উষ্ণ অভ্যর্থনা শেষে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে জাকার্তার হোটেল বরোবুদুরে নিয়ে যাওয়া হবে। সফরকালে তিনি এ হোটেলেই অবস্থান করবেন।
চলতি বছর এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য- ‘বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সাউথ সাউথ সহযোগিতা জোরদার করা।’
এশিয়ান-আফ্রিকান মহাদেশের ৬৬টি দেশের উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনে অংশ নেবেন। এছাড়া ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা যথা- জাতিসংঘ, আসিয়ান, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, আফ্রিকান ইউনিয়ন, আরব লীগ ও সাউথ সেন্টার’এর প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে যোগ দেবে।
এশিয়ান-আফ্রিকান সম্মেলনের ৬০তম বার্ষিকী উপলক্ষে এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পূর্ব-পশ্চিম এই দুই ব্লকের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ চলাকালে প্রথম এশিয়ান-আফ্রিকান সম্মেলন ১৯৫৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার বানদুং শহরে অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৫ সালে এই বানদুং চেতনা নতুন এশিয়ান-আফ্রিকান কৌশলগত অংশীদারিত্বে রূপ নেয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২২ এপ্রিল সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। তিনি তার ভাষণে টেকসই উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও শান্তির জন্য সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।
প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের দুই মহাদেশের দুই-তৃতীয়াংশ জনসংখ্যা ভয়াবহ হুমকির মুখে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরবেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সাফল্যের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন।
এছাড়া ২৩ এপ্রিল শীর্ষ সম্মেলনে প্লেনারি সেশন-৪ এ সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন শেখ হাসিনা। তিনি অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো ও ফার্স্ট লেডি ইরিয়ানা জোকো উইদোদো আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজে অংশ নেবেন।
সম্মেলনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি শেখ হাসিনা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে, সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লী সিয়ানলুং, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিয়েন শিয়ান, ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী ড. রামি হামদুল্লাহ, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।
২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ
নিউজবাংলাদেশ.কম








