News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:৩০, ২০ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ১৬:৫৭, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভারতে বাংলাদেশি নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

ভারতে বাংলাদেশি নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

ঢাকা: ভারতে ট্রেনে এক বাংলাদেশি গৃহবধূকে দুর্বৃত্তরা ধর্ষণের পর হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনরা। তবে, ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি বাংলাদেশ ও ভারতের পুলিশ প্রশাসন।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশ জানান, নিহত নার্গিস আক্তার (৩৪) খুলনার সোনাডাঙ্গা উপজেলার সাহাবুদ্দিনের মেয়ে।

সোমবার সকালে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে নার্গিসের লাশ হস্তান্তর করা হয়। লাশ নিতে বেনাপোল চেকপোস্টে নিহতের মেয়ে কোহিনূর কাকলি (০৯) ও অন্ধ মা মনিমালা এসেছিলেন বলে জানান পুলিশ।

কোহিনূর কাকলি ও মনিমালা জানান, আজমির শরীফ যাওয়ার জন্য ৯ মার্চ নার্গিসসহ তারা পেট্রোপোল চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে ঢোকেন। ওই দিন হাওড়া স্টেশন থেকে ট্রেনের টিকেট কেটে দিল্লির উদ্দেশে রওয়ানা হন তারা। রাত সাড়ে ৩টার দিকে ৪/৫ জন যুবক দিল্লি চলে এসেছে জানিয়ে তাদের নামতে বলে। এ সময় তারা তিনজন ট্রেন থেকে নেমে যান। কিন্তু একটি ব্যাগ ভুলে রেখে আসায় সেটি আনতে আবার ট্রেনে ওঠেন নার্গিস। ওই সময় কয়েকজন যুবক তার মুখ চেপে ধরে ট্রেনের গার্ডের রুমে নিয়ে যায়।

মনিমালা অন্ধ হওয়ায় মেয়ের গোঙানি ও চিৎকার শুনে কাঁদতে থাকেন। ততক্ষণে ট্রেন চলে গেলে পরে স্টেশন এলাকায় জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন ওটা কানপুর স্টেশন। এসময় তাদের তিনটি পাসপোর্টই নার্গিসের কাছে ছিল।

পরে নানাভাবে নার্গিসের খোঁজ করার চেষ্টা করেও তারা তার কোনো হদিস পাননি। পরে কে বা কারা ১৬ মার্চ তাদের দুজনকে পাসপোর্ট ছাড়াই অবৈধ পথে বাংলাদেশে পৌঁছে দিয়ে যায় বলে  জানান মানিমালা ।

গত ১৯ মার্চ খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার পুলিশ তাদের বাড়ি গিয়ে ভারতে নার্গিস মারা গেছেন বলে জানান।

সোনাডাঙ্গা থানা থেকে মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ওইদিনই সোনাডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নার্গিসের মা মনিমালা। ক্ষতিপূরণ ও লাশ ফেরতের জন্য মনিমালা স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ দেশের নয়টি দপ্তরে আবেদনও করেন।

ইমিগ্রেশন পুলিশ জানান, ১৯ মার্চ ঘটনাটি জানার পর খুলনা পুলিশের বিশেষ শাখা বিষয়টি বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনকে জানায়। ওই সময় নার্গিসের লাশ আগ্রার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ছিল। পরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের মাধ্যমে লাশটি ফেরত আনা হয়।

ইমিগ্রেশন পুলিশ নার্গিস কীভাবে মারা গেলেন, কিংবা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কি না সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়