ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: এক বাংলাদেশি উদ্ধার
আফ্রিকা থেকে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার সময় রোববার ভূমধ্যসাগরে কয়েক শত অভিবাসী নিয়ে ডুবে যাওয়া ইঞ্জিনচালিত নৌকার উদ্ধারকৃত যাত্রীদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি রয়েছেন। তবে তার নাম-পরিচয়ের ব্যাপারে বিস্তারিত জানা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি। লিবিয়ার উপকূলে এ ঘটনায় শতাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইতালির কাতানিয়ার আইনি প্রতিনিধিদের তথ্যের বরাত দিয়ে আজ সোমবার সিএনএনের খবরে উদ্ধার হওয়া ওই বাংলাদেশি যাত্রীর কথা জানানো হয়। নৌযানটিতে বাংলাদেশি ছাড়াও আলজেরিয়া, মিসর, সোমালিয়া, নাইজার, সেনেগাল, মালি, জাম্বিয়া ও ঘানার নাগরিক ছিলেন।
এএফপির খবরে জানানো হয়, ওই বাংলাদেশি অভিবাসীকে হেলিকপ্টারে করে সিসিলির একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বাংলাদেশি ওই অভিবাসীর তথ্যমতে, নৌযানটিতে ৯৫০ জন যাত্রী ছিলেন। ডুবে যাওয়ার আগে সমুদ্রে কয়েকদিন কাটানোর পর গত শনিবার রাতে নৌযান থেকে দূরবর্তী সংকেত পাঠানো হয়।
উল্লেখ্য, ইতালীয় উদ্ধার-কর্মীদের সঙ্গে থাকা মাল্টা কর্তৃপক্ষ শুরুর দিকে জানিয়েছিল নৌযানটিতে ৭০০ জন অভিবাসী ছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, বাঁচার আশায় অভিবাসীরা নৌকার এক দিকে সরে গেলে নৌযানটি ডুবতে শুরু করে। এসময় অনেকে বাঁচার আশায় সাগরে ঝাঁপ দেওয়ায় তাদের জীবিত উদ্দারের আশা ক্ষীণ।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। ২৪ জনের লাশ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে ২০টির মতো জাহাজ ও তিনটি হেলিকপ্টার। এছাড়া উপকূল রক্ষী, কাস্টমসের জাহাজ এমনকি মাছ ধরার ছোট ছোট নৌকাও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছে।
রোববার স্থানীয় সময় মধ্যরাতে লিবিয়ার জলসীমায় ইতালীয় পেলাগি দ্বীপপুঞ্জের লামপেডুসা থেকে প্রায় একশ’ ২০ মাইল দক্ষিণে এ নৌ-ডুবির ঘটনা ঘটে। ভূমধ্যসাগর দিয়ে কয়েক দশক ধরেই এভাবে অভিবাসীরা বিপজ্জনকভাবে ইউরোপ যাওয়ার চেষ্টা করছে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত মঙ্গলবারও ভূমধ্যসাগরে সাড়ে পাঁচশ অবৈধ অভিবাসী নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যায়। এতে কমপক্ষে ৪০০ জন প্রাণ হারান।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা বলেছে, ভূমধ্যসগারে আজ পর্যন্ত যতো দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে মর্মান্তিক।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসজে
নিউজবাংলাদেশ.কম








