ইদুরে খাওয়া পরিত্যক্ত শিশুটিকে বাঁচানো গেল না!
নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের ড্রেন থেকে শুক্রবার গভীর রাতে এক নবজাতককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের পর শনিবার ত্রাণকর্তার ভূমিকা নেন সদর উপজেলার ইউএনও গাউছুল আজম। বাবা-মা’র পরিচয়হীন ওই নবজাতককে বাঁচিয়ে রাখার প্রাণান্তকর চেষ্টার অংশ হিসেবে একজন আয়াকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতে থাকে পরিচর্যা, এগিয়ে আসেন অনেকেই।
তবে শেষতক শনিবার রাত ১১টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে নবজাতকটি। এর কিছুক্ষণ পরেই ফেসবুকে স্ট্যাটাসে গাউছুল আজম জানান, “শিশুটি আমাদের সকলকে কান্নার সাগরে ভাসিয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে একটু আগে। (ইন্নানিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন )। আমরা তাকে বাঁচাতে পারলাম না .......আমি আপনাদের নিকট ক্ষমাপ্রার্থী .... কেনো চোখের পানি আটকাতে পারছি না।”
অন্যদিকে মুঠোফোনে পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় তিনি এও জানান, “রোববার সকাল ১০টায় শিশুটির জানাযা অনুষ্ঠিত হবে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল সংলগ্ন মসজিদে। পরে পাইকপাড়া বড় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।”
জানা গেছে, শুক্রবার দিনগত রাত পৌনে ১২টায় নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের (ভিকটোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল) জরুরী বিভাগের ড্রেন থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে জরুরী বিভাগের কর্মকর্তারা। পরে শিশুটিকে বাঁচিয়ে রাখতে হাসপাতালের গাইনী বিভাগের মায়েদের শিশুটিকে দুধ খাওয়াতে অনুরোধ করলে কেউ রাজি হননি। কিন্তু ১৩ ঘন্টা পর শনিবার দুপুরে তৃতীয় সন্তানের মা আঁখি বেগম বুকের দুধ পান করিয়ে শিশুটির তৃষ্ণা নিবারন করেন।
পরে শিশুটিকে দেখাশুনা করতে থাকেন হাসপাতালের আয়া জিয়াসমিন বেগম। রাত ১১টার দিকে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে সে মারা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী আরিফুর রহমান বাবু ও হাসপাতালের জরুরী বিভাগের ব্রাদার জাকির হোসেন বলেন, “শুক্রবার রাতে ভাগিনা বাবু ও আমরা কয়েকজন শিশুর কান্নার শব্দ শুনে ছুটে যাই। সেখানে ড্রেনের মধ্যে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখি। অন্ধকারে কে বা কারা ড্রেনের মধ্যে শিশুটিকে ফেলে যায়। পরে সেখান থেকে এনে চিকিৎসা দেয়ার পর শিশুটি বেশ সুস্থ হয়। শিশুটির পায়ে ইদুর বা চিঁকা (ছুঁচো) জাতীয় কোনো প্রাণীর কামড়ানোর দাগ ছিল।”
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় শিশুটিকে দেখতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাউছুল আজম শিশুটির ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন সামগ্রী প্রদান করেন। এসময় খন্দকার ফাউন্ডেশনের নিবার্হী পরিচালক সাইফুল ইসলাম শিশুটির দেখাশুনা ও চিকিৎসার জন্য ৫ হাজার টাকা দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো কয়েকজন নগদ টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সদর উপজেলার আরিফুল, অ্যাডভোকেট বুলবুল, আনোয়ার সরদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নারী ও পুরুষ।
নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) আসাদুজ্জামান বলেন, “আমাদের হাসপাতালের কয়েকজন ব্রাদার শিশুটিকে শুক্রবার রাতে উদ্ধার করে। শিশুটির পায়ে কামড়ের চিহ্ন দেখে ইনজেকশন ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। শিশু বেশ সুস্থ হয়। পরে শনিবার রাতে সে মারা যায়। নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাউছুল আজম সাংবাদিকদের বলেন, “যার কেউ নেই তার আল্লাহ আছে। আর আমরা অভিভাবক ছিলাম। শিশুটিকে উদ্ধারের পর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাতে সে মারা যায়।”
নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে
নিউজবাংলাদেশ.কম








