News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৫:৪৮, ১৯ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৫:৪৫, ১৯ জানুয়ারি ২০২০

জুয়া নিয়ে ৩ দিন ধরে সংঘর্ষ, নিহত ১ আহত ৫০

জুয়া নিয়ে ৩ দিন ধরে সংঘর্ষ, নিহত ১ আহত ৫০

গাইবান্ধা: জেলার সাদুল্যাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের রাঘবেন্দ্রপুর গুচ্ছগ্রামে বৈশাখী মেলায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে দু’দল গ্রামবাসীর তিনদিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষে একব্যক্তি নিহত ও তিন শিশুসহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়েছে।

শুক্রবার থেকে ওই এলাকার রাঘবেন্দ্রপুর ও তিলকপাড়া গ্রামের মধ্যে এ সংঘর্ষ চলছে। রোববার সকাল সকাল ১০টার দিকে সংঘর্ষের সময় তালেব আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন।

নিহত তালেব আলী চকনদী গ্রামের পচা মামুদের ছেলে।

গুরুতর আহতদের মধ্যে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রামের হেলাল মিয়ার ছেলে লিখন মিয়া (১১)কে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া একই গ্রামের চেংটু মিয়ার ছেলে আজাদুল (২২), ইসমাইল হোসেনের ছেলে আশরাফুল (২৫), তোফা মিয়ার ছেলে লিটন মিয়া (১৬), ইদিলপুর ইউনিয়নের রাঘবেন্দ্রপুর গ্রামের সফু মিয়া (৪০), সিরাজুল ইসলাম (৩২) শাহাবুল হোসেন (২৮) ও বকুমিয়া (২০) আয়নাল মিয়ার ছেলে আল আমিন (১৪)সহ বাকিদেরকে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অপর আহতদের নাম ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ইদিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুর রহমান ও ধাপেরহাটের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শিপন জানান, ঢাকঢোল পিটিয়ে রাঘবেন্দ্রপুর গুচ্ছগ্রামে শুক্রবার বৈশাখী মেলার আয়োজন করে ওই এলাকার ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মাদসহ কিছু যুবক। এ মেলায় ১০/১২ বছরের কিছু শিশু-কিশোর তাস দিয়ে চুকচুকি নামক একটি জুয়া খেলা বসায়। রাঘবেন্দ্রপুর গ্রামের কয়েকজন কিশোর ও যুবকের ওই জুয়া খেলায় টাকা খোয়া যায়। তারা টাকা খোয়া যাওয়াকে কেন্দ্র করে মেলা সংলগ্ন ধাপেরহাট ইউনিয়নের তিলকপাড়া গ্রামের ওই জুয়া আয়োজনকারী শিশু-কিশোরদেরকে মারপিট করে। পরে বিষয়টি দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে দুই গ্রামের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের ৫০ জন আহত হয়। এসময় মেলার আয়োজক ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মাদ কে আটক করে লাঞ্ছিত করে এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

সূত্রটি আরো জানায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে রাঘবেন্দ্রপুর গ্রামের আয়নাল মিয়ার ছেলে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র আল আমিন তিলকপাড়ায় অবস্থিত তফেজান নেছা দাখিল মাদ্রাসায় ক্লাস করতে এলে তাকে আটক করে মারপিট করে তিলকপাড়ার কয়েকজন যুবক। খবর পেয়ে ধাপেরহাট তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আল আমিনকে উদ্ধার করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববারও দুই গ্রামের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে।

সাদুল্যাপুরের ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই জালাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফএ

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়