News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:২৪, ২২ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ১২:৪৫, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ

সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ


ঢাকা: পর্যায়ক্রমে ১১ জন নারীকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত রসু খাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের একটি আদালত। দেশের প্রথম সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর বিরুদ্ধে এটিই প্রথম রায়।

টঙ্গীর গার্মেন্টস কর্মী শাহিদা বেগম হত্যা মামলার রায়ে রসু খাঁকে ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২০১ ধারায় ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। বুধবার দুপুর ১টায় জনাকীর্ণ আদালতে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ অরুণাভ চক্রবর্তী এ রায় দেন।

এসময় রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট সাইয়েদুল ইসলাম বাবু। রসু খাঁর পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নাঈমুল ইসলাম।

রায় উপলক্ষ্যে সকাল ৯টায় রসু খাঁকে কড়া পুলিশি প্রহরায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। বেলা ১১টার দিকে আদালতে উঠালে সাদা লুঙ্গি প্রিন্টের সার্ট ও টুপি পরিহিত ক্লিন শেভ করা রসু খাঁকে বেশ ফুরফুরে ও দুশ্চিন্তামুক্ত দেখা যায়। পরে বেলা ১টায় সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ঐ রায় দেন।

২০০৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর সদর উপজেলার সোবহানপুর গ্রামের ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে জনৈক আবিদ মালের বাড়ির পাশ থেকে শাহিদার মৃতদেহ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এসময় আনুমানিক ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণীর পরনে লাল শাড়ি, লাল পেটিকোট ও লাল ব্লাউজ ছিল। তার হাত ও পা পেছনের দিক থেকে কালো বোরখা দিয়ে বাঁধা ছিল। ধরা পড়ার পর রসু খাঁ বিচার বিভাগীয় তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুর রহমানের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছিলেন, শাহিদা পেশায় পতিতা ছিল। গভীর রাতে নদী পার করার কথা বলে চাঁদপুরে আবিদ মালের বাড়ির কাছে এনে সে শাহিদার হাত ও পা বেঁধে ধর্ষণের পর পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে।

এক সময়ের ছিঁচকে চোর রসু খাঁ ভালোবাসায় পরাস্ত হয়ে একপর্যায়ে ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলারে পরিণত হয়। তার বাড়ি চাঁদপুরের মদনা গ্রামে। ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর  মসজিদের মাইক চুরির মামলায় পুলিশের হাতে ধরা পরার পর তার লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের চিত্র বেরিয়ে আসে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ১১ জন নারীকে হত্যা করার কথা সে নিজের মুখেই স্বীকার করে।

গ্রেফতারের পর চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ থানায় রসুর নামে মোট ১০টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে নয়টি হত্যা ও অপরগুলো নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলা। রসু খাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো বিচারের জন্য চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে একটি মামলার রায়ে রসু খাঁ বেকসুর খালাস পায়।

এ অবস্থায় তার বাদবাকি মামলাগুলো চাঁদপুর আদালতে পুনরায় ফেরত পাঠিয়ে দেন ট্রাইব্যুনাল। বর্তমানে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি এবং অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে আটটি মামলার বিচার চলছে।

খুনি রসু জানায়, ১০১টি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সিদ্ধান্ত ছিল তার । কিন্তু পুলিশের হাতে ধরা পরার পর তার সেই আশা হয়নি। রসুর হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া প্রায় সব নারীই ছিলেন গার্মেন্টস কর্মী।

ভালোবাসার অভিনয়ের মাধ্যমে রসু ঢাকার সাভার ও টঙ্গী এলাকার নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েদের কৌশলে চাঁদপুরের প্রত্যন্ত এলাকায় নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করে। এখনো পর্যন্ত ওইসব হতভাগ্য মেয়েদের অধিকাংশেরই সঠিক পরিচয় জানা যায়নি।

রসু খাঁ চাঁদপুর জেলা কারাগারে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এএইচকে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়