বেড়িবাঁধে ভাঙন
খুলনায় প্লাবনের আশঙ্কায় ২০ গ্রাম
খুলনা: ঢেউয়ের পর ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে ভেঙে যাচ্ছে পাড়। সে দিকেই তাকিয়ে ছিলেন খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের চাঁদগড় গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের (৬০)। কিছুটা যেন অন্যমনস্ক হয়েই বললেন, “আজ তিনদিন ধরে জোয়ারের পানির গর্জন শুনছি। স্রোতের এই অবস্থা দেখে কি আর ঘরে ঘুমানো যায়! সারারাত জেগে থাকতে হচ্ছে। কখন জোয়ারের পানির তোড়ে নদীর বাঁধটি ভেঙ্গে বাড়ি ঘর সব ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।”
সোমবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২৯ নম্বর পোল্ডার ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে গেলে কথা হয় এই গৃহস্থের সাথে।
নদী ভাঙন প্রতিরোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো মুহূর্তে বেড়িবাঁধের অবশিষ্টাংশ ভেঙে ওই এলাকার ২০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। যদিও ওই ভাঙন থেকে বিস্তৃর্ণ এলাকা তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উপজেলা নির্বাহিী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ৪০ দিনের কর্মসূচীর শ্রমিকদের দিয়ে বিকল্প বাঁধ দেয়ার চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় অধিবাসীরা জানান, প্রায় প্রতিবছরই নদী ভাঙছে। তারপরও বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে চিংড়ি ঘেরে নোনা পানি প্রবেশ করানো হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে নামকাওয়াস্তে নোটিশ দেয়া হয় কিন্তু তাদের বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে ঘেরে নদী থেকে নোনা পানি উত্তোলন বন্ধ হয় না।
সোমবার ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এর সত্যতা পেয়ে তাৎক্ষণিক যে সব স্থানে বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে পানি তোলা হচ্ছে সে সব পাইপ তুলে ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেন।
গত বছর চাঁদগড়ের এই স্থানটিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড সাড়ে নয় লাখ টাকা ব্যয়ে মাত্র ৬০ মিটার বিকল্প বেড়িবাঁধ দিয়েছে। চাঁদগড় গ্রামের বাসিন্দা মো. শরিফ জামান জানান, সাড়ে নয় লাখ টাকায় মাত্র ৬০ মিটার জায়গায় বেড়িবাঁধ হয় কিভাবে তা আমাদের জানা নেই। তিনি বলেন, সে সময়ে যারা কাজ করেছে তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকায় কাজটি করা হয়েছে। বাকি টাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের পকেটে গেছে।
শরাফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম বলেন, মাস খানেক আগে থেকে ২৯ নম্বর পোল্ডারের ভদ্রা নদীর চাঁদগড়ের এই স্থানে একটু একটু করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে চলতি অমাবশ্যায় এই ভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তিনি বলেন, চাঁদগড়ের অপর পাড়ে নদী ভরাট হচ্ছে। আর এ পাড় ভাঙছে। তাই গত বছর এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড বিকল্প বাঁধ তৈরি করছিল। কিন্তু ৬০ মিটার বাঁধ নির্মাণ করার পর আর এগোয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ড যদি আরও প্রায় ২০০ মিটার বিকল্প বাঁধ নির্মাণ করত তবে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকত না।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ সামছুদ্দৌজা বলেন, জোয়ারের পানির তোড়ে ১০ মিটার প্রস্থের বেড়িবাঁধের প্রায় সবটুকুই নদীতে ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ভাঙনে যাতে বিস্তৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে না পারে সে জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ৪০ দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়ে শ্রমিকদের দিয়ে ভাঙন এলাকায় বাঁধের পাশে মাটি দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া থোক বরাদ্দের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিষয়টি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসএইচ/এফই
নিউজবাংলাদেশ.কম








