News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:০২, ১৭ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০৪:১৫, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

১৬ বছর পর আবার পাকিস্তান-বধ

১৬ বছর পর আবার পাকিস্তান-বধ

ঢাকা: ১৯৯৯ সালের পর ২০১৫। নর্দাম্পটনের পরে মিরপুর। ১৬ বছর বাদে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্রিকেটে আবার জয় পেল বাংলাদেশ। সেটা তিন ফরম্যাট মিলেই। শুক্রবার ঢাকার শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম খেলায় পাকিস্তানকে ৭৯ রানের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশি টাইগাররা।এই জয়ের মাধ্যমে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল লাল-সবুজ পতাকাধারীরা।

সিরিজ শুরুর আগেই বারবার হুঙ্কার ছুঁড়েছেন সাকিব। দু দুবার ঘোষণা দিয়েছেন, “আমরাই ফেভারিট।” পরিসংখ্যানের অলিগলি দেখালে সাকিবের হুক, “১৬ বছর ধরে তাদের বিপক্ষে জিততে পারিনি সেজন্য এবারও পারব না এমন তো নয়!” পাকিস্তানের কিংবদন্তি কোচ ওয়াকার ইউনিস তাতে সায়ও দিয়েছেন। অবশ্য ভদ্রতার খাতিরে বাংলাদেশ কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে একই পথে হাঁটেননি। কিন্তু তাতে তামিম-মুশফিকদের খুব বেশি ক্ষতি হয়নি নিশ্চয়ই। কারণ, এদিনই যে ১৬ বছরের অতৃপ্তি মোচন করেছে বাংলার দামাল ছেলেরা।

দিনের শুরুটাই হয়েছিল সাকিবের এক চিলতে হাসি দিয়ে। মাশরাফির নিষেধাজ্ঞায় অধিনায়কত্ব করতে নেমে ভাগ্যের খেলা টসে জয় পায় বাংলাদেশ দলপতি। এরপর একটুও না ভেবে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন সাকিব। তার সেই সিদ্ধান্তটা যে অযৌক্তিক ছিল না তার স্বাক্ষর রেখেছে স্বাগতিক দলের ওপেনাররা। উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ৪৮ রান। সেটা ১৩.২ ওভারেই। ২০ রান করে দুভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হন সৌম্য সরকার। বিশ্বকাপ কাঁপানো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও প্রসন্ন হাসি উপহার দিতে পারেননি।৫ রান করে রাহাত আলির বলে বোল্ড আউট হন তিনি।

কিন্তু এখন বাংলাদেশ দল তো আর দু-এক জনের পারফরম্যান্সের ওপর তাকিয়ে থাকে না। তাই রিয়াদের প্রস্থান স্কোরবোর্ডে খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। বরং উইকেটে রান মেশিন মুশফিকের আগমন চাঙ্গা করে দেয় খোলসবন্দি তামিম ইকবালকে। এরপর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী সাজিয়ে ১৩২ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তামিম।বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে যিনি নিজের ছায়া হয়ে ছিলেন। ১৩৫ বল মোকাবেলা করে ১৫ চার ও ৩ ছক্কায় ইনিংস সাজান তিনি। ওয়াহাব রিয়াজের বলে দলীয় ২৪৫ রানে আউট হন টাইগার ওপেনার।

এরপর শুরু হয় মুশফিক শো। পাকিস্তানি বোলারদের কাঁপিয়ে মাত্র ৭৭ বলে ১০৬ রানের ইনিংস উপহার দেন তিনি। ১৩৭-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে রান করেন উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। ১৩টি চারের সাথে দুটি ওভার বাউন্ডারির মার ছিল মুশফিকের ইনিংসে। তাকেও সেই ওয়াহাব রিয়াজই ফেরান। সাব্বির রহমান ১৫ রান করে আউট হন। সাকিব ৩১ আর নাসির হোসেন ৩ রানে অপরাজিত থাকেন। তাতে স্কোরবোর্ডে জমা হয় ৬ উইকেটে ৩২৯। পাকিস্তানের ওয়াহাব রিয়াজ ৫৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট দখল করেন।

লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটাও ছিল আশা জাগানিয়া। হিমালয়ে চড়ার মতো কঠিন কাজ করতে নেমে আজহার আলি-সরফরাজ আহমেদের উদ্বোধনী জুটি ৫৩ রান উপহার দেয় সফরকারীদের। সরফরাজের বিদায়ে এই জুটি ভাঙেন আরাফাত সানি। নির্বাসন থেকে ফিরে মোহাম্মদ হাফিজ জ্বলে উঠতে পারেননি। স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ছয় রান যোগ হতেই সাজঘরে ফেরেন পাক অলরাউন্ডার। তৃতীয় উইকেটে ৮৯ রান যোগ করে বাংলাদেশি সমর্থকদের ভয় পাইয়ে দিতে বসেছিলেন আজহার আলি ও হারিস সোহেল। সেই জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ।৭৩ বলে ৭২ রান করা পাক অধিনায়ককে আউট করে।

এরপরও ভালোভাবেই ম্যাচে ছিল পাকিস্তান। স্বচ্ছন্দ ব্যাটিং করে পাকিস্তানকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন হারিস সোহেল। অর্ধশতকও তুলে নেন তিনি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময় তাকেও ফেরান তাসকিন।৬৪ বলে ৫১ রান করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে ক্যাচ দেন পাঞ্জাবের ২৬ বছর বয়সী ব্যাটিং প্রতিভা। ফাওয়াদ আলম দাঁড়াতে পারেননি। সানির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন তিনি। ৪০তম ওভারে দলীয় ২১৭ রানে আউট হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। পাকিস্তানের ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান অভিষিক্ত সাদ নাসিমও সানিরই শিকার। ওয়াহাব রিয়াজকে (৮) বোল্ড করেন তাসকিন।

উইকেটের বিপরীত প্রান্তে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের যাওয়া-আসা দেখতে দেখতেও ভয় পাননি আরেক অভিষিক্ত মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৫৮ বলে ৬৭ রান করে রুবেল হোসেনের শিকার হন তিনি। কোনো রান না করেই রান আউটের শিকার সাঈদ আজমল। দ্রুত ফেরেন রাহাত আলিও। তাতে ৪৫.২ ওভারে ২৫০ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। বাংলাদেশ জয় পায় ৭৯ রানে। বাংলাদেশের তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি তিনটি করে উইকেট পান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এফকে

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়