News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩১, ৩০ মার্চ ২০২৬

জ্বালানি সংকটে ফিরতে পারে অনলাইন ক্লাস-হোম অফিস

জ্বালানি সংকটে ফিরতে পারে অনলাইন ক্লাস-হোম অফিস

ছবি: নিউজবাংলাদেশ

ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক জ্বালানি অনিশ্চয়তা ও ডলার সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ কঠোর সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বা কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি নেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে করোনাকালের মতো আবারও অফিসের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন আনা, কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ ফিরিয়ে আনা এবং সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানোর বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আপাতত তিন মাসের একটি স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে সরকার মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী কৌশল গ্রহণ করবে। এরই মধ্যে সব সরকারি সংস্থাকে জ্বালানি সাশ্রয়ের বিষয়ে নিজস্ব প্রস্তাব তৈরি করতে বলা হয়েছে, যা আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। বেশ কিছু মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তাদের কৃচ্ছ্রসাধনমূলক ব্যবস্থার খসড়া তৈরি শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম, আমদানিতে বাড়তি খরচ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অন্তত আটটি বিশেষ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ করার (হোম অফিস) সুযোগ দেওয়া। এছাড়া অফিসের কাজ প্রতিদিন আরও দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাবও টেবিলে রয়েছে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাস অনলাইনে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা হচ্ছে, যা একইসঙ্গে যাতায়াত জনিত জ্বালানি খরচ ও যানজট নিয়ন্ত্রণ করবে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে আগামী মন্ত্রিসভা বৈঠকে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতকারীকে ধরিয়ে দিলে ১ লাখ টাকা পুরস্কার

জ্বালানি মজুত ও অপচয় রোধে সরকার ইতোমধ্যে কিছু প্রশাসনিক নির্দেশনা জারি করেছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২৯ মার্চ এক চিঠিতে কর্মকর্তাদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ কক্ষে অবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি ১১টি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দিনের বেলা প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখা এবং অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা। প্রতিটি অফিসে এই নিয়মগুলো তদারকি করতে সরকার একটি ‘ভিজিল্যান্স টিম’ বা নজরদারি দল গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘চাহিদাপক্ষ নিয়ন্ত্রণ’ বা ডিএসএম (Demand Side Management) কৌশল অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালী, যা তেল ও এলএনজি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। সেখানে যেকোনো বিঘ্ন বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। সরবরাহ সংকটের কারণে বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির বাইরেও স্পট মার্কেট (খোলা বাজার) থেকে চড়া দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে। 

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, পেট্রোবাংলা আগামী মাসগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমার বিষয়ে সতর্ক করেছে। বর্তমান ঘাটতি মেটাতে বিদ্যুৎ খাত ফার্নেস অয়েলের মতো ব্যয়বহুল বিকল্পের ওপর নির্ভর করছে। তবে সম্প্রতি কেনা এলএনজি সময়মতো পৌঁছালে এপ্রিল মাসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশা করা হচ্ছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য নতুন হওয়ায় সংকটের সময় সিদ্ধান্ত গ্রহণে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিতে পারে। সেক্ষেত্রে অতীতে সংকট মোকাবিলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিশেষ মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকে দ্রুত এসব সাশ্রয়ী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন তারা। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় সরকারি ঋণ পরিহার ও কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তাবও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এই মুহূর্তে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছে না।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়