News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:২৭, ১৯ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০১:০৭, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

আদালত থেকে আসামি গ্রেফতারে তোলপাড়

আদালত থেকে আসামি গ্রেফতারে তোলপাড়

শেরপুর: জামিনের জন্য স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণকারী এক আসামিকে খোদ আদালত থেকেই গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে পুলিশ।

রোববার সকালে শেরপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, শেরপুর শহরের ডাক্তার-অধ্যাপক দম্পতির এক কলেজপড়ুয়া কন্যাকে অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রোববার সকালে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন ওই মামলার মূল আসামি কলেজছাত্র জিহানের বাবা হানিফ (৪৫) ও জিহানের মা বিনা (৪৩)।

সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতের বিচারক এজলাসে উঠার আগে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মাহফুজার রহমান ও এস আই বন্দে আলীর নেতৃত্বে একদল পুলিশ হানা দেয় ওই আদালত কক্ষেই। একপর্যায়ে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের দ্বিতলের ওই কক্ষ থেকে আইনজীবী, আইনজীবী সহকারী ও আদালতের স্টাফদের সামনেই হানিফকে টেনে-হিঁচড়ে গ্রেফতার করে নিয়ে যায় পুলিশ।

পরে হাজির হওয়া ২ আসামির মধ্যে কেবল দুগ্ধপোষ্য শিশু সন্তানসহ আসামি বিনার উপস্থিতিতে মামলার নথিটি শুনানির জন্য উপস্থাপন হলে আইনজীবীরা হাজির হওয়া আসামিকে আদালত কক্ষ থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

আইনজীবীরা মামলার তদন্ত কর্মকর্তাসহ ওই আসামিকে আদালতে তলবের আদেশ প্রার্থনা করলে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরীফুল ইসলাম মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজসহ জামিনের আবেদন নাকচ করে আসামি বিনাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের সিএসআই আব্দুল আজিজ আইনজীবীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আসামি হানিফকে আদালত কক্ষ থেকে নয়, বাইরে থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

এ বিষয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম বলেন, “আইনজীবী ও পুলিশের দায়িত্ব অনেকটাই কাছাকাছি। পুলিশ আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। আর আইনজীবীরা আসামিকে নিয়ে আদালতেই আত্মসমর্পণ করায়। কিন্তু আদালতে আত্মসমর্পণের পর বিচারক এজলাসে উঠার আগে খোদ আদালত কক্ষ থেকেই আসামিকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়াটা আদালত অবমাননা।”

তিনি জানান, এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদককে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনায় জেলা মানবাধিকার কমিশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট প্রদীপ দে কৃষ্ণ বলেন, “স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণকারী আসামিকে আদালত কক্ষ থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা পুলিশের বাড়াবাড়ি ছাড়া কিছু নয়।”

নিউজবাংলাদেশ.কম/এমএম

নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়