সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ফিরে এলো নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
ফাইল ছবি
দেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী আইনি ও রাজনৈতিক অধ্যায়ের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটিয়ে সংবিধানে বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা বহাল করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
রবিবার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের লেখা ৭৪ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
রায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে এবং চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে নিয়মিতভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা কার্যকর হবে।
২০১১ সালের ১০ মে আপিল বিভাগের রায়ে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপ করা হয়। এর ফলে পরবর্তী তিনটি জাতীয় নির্বাচন বিতর্কের মধ্যে পড়ে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হলে সর্বোচ্চ আদালত নতুন করে আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারকের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ২০ নভেম্বর এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
বেঞ্চের অন্যান্য বিচারক ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। রায়ে বলা হয়েছে, সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন।
আরও পড়ুন: জামিন পেলেও কারামুক্ত হচ্ছেন না এ বি এম খায়রুল হক
১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয়। তবে ২০১১ সালে আপিল বিভাগের রায়ে এটি বাতিল হয়ে যায় এবং পঞ্চদশ সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধান থেকে বাদ পড়ে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচজন বিশিষ্ট নাগরিক, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও নওগাঁর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোফাজ্জল হোসেন পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। এর ফলে মোট চারটি রিভিউ আবেদন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি হয়।
শুনানির প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ উল্লেখ করেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিয়ে আপিল বিভাগ কেবল সাময়িক সমাধান দিতে চায় না; বরং এটি এমনভাবে কার্যকর করা হবে যাতে নির্বাচনকালীন সরকার বারবার বিঘ্নিত না হয় এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।
শুনানিতে বিএনপির পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, জামায়াতের পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, পাঁচ বিশিষ্ট নাগরিকের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী শরীফ ভূইয়া, এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান যুক্ত ছিলেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হওয়ায় এখন এটি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য কার্যকর হবে এবং দেশের নির্বাচনকালীন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








