দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন
ফাইল ছবি
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় অবশেষে জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। এর মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে থাকা মোট পাঁচটি মামলার সবকটিতেই তিনি জামিন পেলেন, যার ফলে দীর্ঘ কারাবাসের পর তার মুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন জানান, হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে সাবেক প্রধান বিচারপতির জামিনে মুক্তি পেতে আর কোনো বাধা নেই।
এর আগে গত রবিবার (০৮ মার্চ) হাইকোর্ট জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতির চার মামলায় খায়রুল হককে জামিন দিয়েছিল। এসব মামলায় আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসরুল হক চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান খান, মোতাহার হোসেন সাজু এবং আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন।
খায়রুল হককে গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর হাইকোর্টে তিনি জামিনের আবেদন করেন। হাইকোর্ট ৫ মামলায় জামিন সংক্রান্ত রুল জারি করে, যার মধ্যে বুধবার দুদকের মামলার শুনানি শেষ হয়।
আরও পড়ুন: ‘জামিনের জন্য কোটি টাকা চাওয়ার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত হবে’
দুদকের মামলায় খায়রুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বেআইনিভাবে রাজউকের প্লট গ্রহণ। এ মামলার সঙ্গে আরও আটজনের নাম জড়িত। এর আগে, ৪ মার্চ হাইকোর্ট খায়রুল হককে চারটি মামলা- জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি- এর জামিন দিয়েছিল।
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং ২০১১ সালের ১৭ মে অবসর গ্রহণ করেন। প্রধান বিচারপতির দায়িত্বকালীন তার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করেছিলেন। অবসরের পর তিনি তিনবার আইন কমিশনের চেয়ারম্যান পদে ছিলেন।
হাইকোর্টের সাম্প্রতিক জামিন আদেশের ফলে সাবেক প্রধান বিচারপতির মুক্তি কার্যত নিশ্চিত হয়েছে, তবে বাকি একটি মামলায় জামিনের জন্য আইনি প্রক্রিয়া এখনও চলমান রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








