News Bangladesh

|| নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৩৪, ১৭ এপ্রিল ২০১৫
আপডেট: ০১:০৭, ১৮ জানুয়ারি ২০২০

বিচারপতি-আইনজীবীর সচেতনতায় রায় দ্রুত হবে: সিনহা

বিচারপতি-আইনজীবীর সচেতনতায় রায় দ্রুত হবে: সিনহা

ঢাকা: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, বিচারপতিরা যদি একটু সচেতন হন, তাহলে রায় দ্রুত বের হবে। এ জন্য আইনজীবীদের আন্তরিক সহযোগিতা খুবই দরকার। রুল অফ ল মেন্টেন করতে চাই। এটা বিচারক আইনজীবী উভয়ের দায়িত্ব।

শুক্রবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলানায়তনে রুলা কর্তৃক আয়োজিত বৈশাখী উৎসব ১৪২২ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনজীবীদের বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এসব কথা বলেন।

রুলার সভাপতি কামরুজ্জামান কচির সভাপতিত্বে প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “আমাদের দেশের একজন বিচারপতি বছরে ছয় মাসের বেশি ছুটি পান। এটা তো ব্রিটিশদের নিয়ম। বিভিন্ন দেশে বিচারপতিরা মাত্র ২০ দিন ছুটি ভোগ করেন। আমি হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি থাকাকালে এই ছুটি কমানোর কথা বলেছিলাম। কিন্তু এ কথার গুরুত্ব কেউ বুঝতে চায়নি।”

সিনহা বলেন, “আজ মুজিব নগর সরকার দিবস। আমরা যদি স্বাধীনতা না পেতাম, তাহলে আমাদের পরিচয় অন্য রকম হতো। পৃথিবীর ইতিহাসে এত কম সময়ের মধ্যে কোথাও সংবিধান তৈরি হয়নি। আমরা অতি অল্প সময়ে তা পেয়েছি। সকল আইনের উৎস এই সংবিধান। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ দিবস পালন করা হয়। এ দিবসকে ঘিরেই আইন শিক্ষার আয়োজন হয়। সুপ্রিম কোর্টে আমরা এরকম একটি দিবস উদযাপন করতে পারি।”

প্রধান বিচরপতি বলেন, “আমি বিচার বিভাগের অভিভাবক তাই আমার কাছে আপনারা চাইবেন। আমি চেষ্টা করবো, আপনাদের দাবি অনুয়ায়ী কিছু করা যায় কি না। আগে সুপ্রিম কোর্টে কোনো রাজনীতি ছিল না। আইনজীবীদের দাবি সকলে এক সাথে মিলে আদায় করতো। আজ আপনাদের মাঝে কোনো রকম ঐক্য নাই। সুপ্রিম কোর্টে প্রায় তিন লক্ষ মামলা ঝুলে আছে। এ মামলাগুলো শেষ করার জন্য আপনাদেরও চিন্তা করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টকে রক্ষা করতে হবে। আপনাদের একই প্লাটফরমে আসতে হবে।”

বিচারপতি ও আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনার বলেন, কী করতে হবে, আমি আপনাদের সাথে আছি। আমার কাজের ওপর আমার মূল্যায়ন হবে অন্য কোনো মাধ্যমে নয়। আমার বিচারপতিরা যদি একটু সচেতন হন, তাহলে রায় দ্রুত বের হবে। এজন্য আইনজীবীদের আন্তরিক সহযোগিতা খুবই দরকার। রুল অফ ল মেন্টেন করতে চাই। এটা বিচারক ও আইনজীবী উভয়ের দায়িত্ব। আইনজীবী যদি কোনো কারণে বিলম্ব করে, তাহলে আদালতের সময় নষ্ট হয়, ভিকটিম সময় মতো প্রতিকার পায় না। তখন রুল অফ ল আর মানা হয় না।”

আগাম জামিন প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, “আগাম জামিন এটা একটা অধিকার। কিন্তু বছরের পর বছর যারা পৈত্রিক ভিটা হতে বিতাড়িত, তাকে প্রাধান্য আগে দিবেন, না যাকে পুলিশ তাড়াচ্ছে তাকে দিবেন। সেক্ষেত্রে রুল অফ ল কোনটি? আগাম জামিনের কারণে উচ্চ আদালতে নিম্ন আদালতের মতো ভিড় লেগে যায়। তাই এটা বন্ধ করা হয়েছে। ভারতে আগাম জামিনের বিধান আছে কিন্তু তাতে সব মামলার শুনানি হয় না। কেবল গুরুত্বপূর্ণ মামলা গুলোর ক্ষেত্রে আগাম জামিন পেতে পারে।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান, বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দোস্তগীর, আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম, সুপ্রিম কোর্ট বার সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/কেএ/কেজেএইচ


নিউজবাংলাদেশ.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়