News Bangladesh

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:০৫, ১০ এপ্রিল ২০২৬
আপডেট: ১৭:০৬, ১০ এপ্রিল ২০২৬

ইসরায়েলকে ‘ক্যান্সার’ বলে খাজা আসিফের বিতর্কিত টুইট: নিন্দার মুখে ডিলিট

ইসরায়েলকে ‘ক্যান্সার’ বলে খাজা আসিফের বিতর্কিত টুইট: নিন্দার মুখে ডিলিট

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরান যখন একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে, ঠিক তখনই ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ ও ‘ক্যান্সার’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা করেন। তবে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া এবং ইসরায়েলের কড়া প্রতিবাদের মুখে তিনি পরবর্তীতে পোস্টটি মুছে ফেলতে বাধ্য হন।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) রাতে দেওয়া ওই পোস্টে খাজা আসিফ লিখেছিলেন, ইসরায়েল হচ্ছে একটি দুষ্ট শক্তি এবং মানবতার জন্য অভিশাপ। যখন ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা চলছে, তখন লেবাননে গণহত্যা চালানো হচ্ছে। প্রথমে গাজা, এরপর ইরান এবং এখন লেবানন- ইসরায়েলের কারণে এই রক্তপাত যেন থামছেই না। 

তিনি আরও যোগ করেন, আশা করি এবং প্রার্থনা করি, যারা ইউরোপীয় ইহুদিদের থেকে মুক্তি পেতে ফিলিস্তিনি ভূমিতে এই ক্যান্সারসদৃশ রাষ্ট্র তৈরি করেছে, তারা যেন জাহান্নামের আগুনে পুড়ে।

পাকিস্তানের এই মন্ত্রীর এমন মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইসলামাবাদ মার্কিন-ইরান উত্তজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই সপ্তাহের একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আগামী শনিবার ইসলামাবাদে এই দুই দেশের কর্মকর্তাদের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। তবে এই যুদ্ধবিরতির পরিধি নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক চলছে। পাকিস্তান ও ইরান দাবি করছে যে লেবাননও এই চুক্তির আওতাভুক্ত, কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র তা সরাসরি অস্বীকার করেছে।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ স্থগিত করল ইরান, দাবি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের

খাজা আসিফের এই মন্তব্যের পরপরই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়। 

এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্য অত্যন্ত জঘন্য। কোনো দায়িত্বশীল সরকারের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়, বিশেষ করে যারা নিজেদের শান্তির মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করে। তার এই মন্তব্য ইসরায়েল ধ্বংসের ডাক দেওয়ার শামিল। 

ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার এই বক্তব্যকে ‘অ্যান্টি-সেমেটিক’ বা ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ইসরায়েলকে ক্যান্সার বলা মানেই একে নিশ্চিহ্ন করার উস্কানি দেওয়া।

উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই লেবাননের শতাধিক স্থানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩০৩ জন নিহত এবং ১,১৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। লেবানন সরকারের দাবি, ১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধের পর এটিই দেশটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ ম্যাসাকার। এই হামলার পরই ক্ষুব্ধ হয়ে খাজা আসিফ ওই বিতর্কিত পোস্টটি করেছিলেন। পাকিস্তানের আশঙ্কা, এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনাকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির মধ্যে খাজা আসিফ পোস্ট মুছে ফেললেও, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের ‘নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী’র ভাবমূর্তি এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়