হরমুজ প্রণালিতে অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি পায়নি বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) নতুন জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। দীর্ঘ ৪০ দিন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আটকে থাকার পর পারাপারের অনুমতি না মেলায় জাহাজটিকে পুনরায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিএসসি ও সরকারের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক চ্যানেলে জাহাজটির নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বিএসসি সূত্র জানায়, গত ১১ মার্চ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পণ্য খালাসের পর থেকেই আঞ্চলিক উত্তেজনার মুখে পড়ে জাহাজটি। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে এমন আশায় গত বুধবার (০৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টায় সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ‘বাংলার জয়যাত্রা’। প্রায় ৪০ ঘণ্টা সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে শুক্রবার সকালে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছালে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে ট্রানজিট ক্লিয়ারেন্সের আবেদন করা হয়। তবে ইরান সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করায় জাহাজটি সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বিএসসির নির্দেশনায় শারজা বন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করে।
জাহাজটিতে মোট ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক নিশ্চিত করেছেন যে, সকল নাবিক বর্তমানে নিরাপদ অবস্থানে আছেন। দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় ক্রুদের মনোবল ধরে রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কর্তৃপক্ষ। নাবিকদের দৈনিক খাবার ভাতা ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং তাদের মৌলিক বেতনের সমপরিমাণ অতিরিক্ত ‘যুদ্ধ ভাতা’ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া পরিবারের সাথে যোগাযোগের সুবিধার্থে জাহাজে স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবা যুক্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী তালিকায় জামায়াতের নাম বহাল, সংসদে বিল পাস
দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় জাহাজে পর্যাপ্ত খাদ্য ও জ্বালানি মজুত রয়েছে। পানীয় জলের চাহিদা মেটাতে জাহাজটি সমুদ্রের লোনা পানি বিশুদ্ধ করার প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। যদিও প্রতিদিন প্রায় ১৮ টন মিঠা পানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, তবে ইঞ্জিনের ওপর চাপ কমাতে এবং জ্বালানি সাশ্রয় করতে রেশনিংয়ের মাধ্যমে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।
বাংলার জয়যাত্রা চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএসসির বহরে যুক্ত হওয়া অন্যতম আধুনিক জাহাজ। গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে যাত্রা করে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে এটি। ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছানোর একদিন পরেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করলে পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার ঝুঁকি বিবেচনায় বিএসসি জাহাজটিকে কুয়েত পাঠানোর পরিবর্তে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে শত শত জাহাজের জট সৃষ্টি হয়েছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক জাহাজের পারাপার নিয়ন্ত্রণ করছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে জাহাজটি দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক বা ব্রাজিলের যেকোনো একটি বন্দরের উদ্দেশ্যে চূড়ান্ত যাত্রা শুরু করবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








