News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:০১, ১০ এপ্রিল ২০২৬
আপডেট: ১৮:০২, ১০ এপ্রিল ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও নকল রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও নকল রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর

ফাইল ছবি

আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বচ্ছ, নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে সম্পন্ন করতে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি গুরুতর অপরাধ এবং এর সাথে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে পরীক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে শতভাগ সততা বজায় রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এবং পরবর্তীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের আওতাধীন কেন্দ্র সচিবদের সাথে জুম মিটিংয়ে মন্ত্রী এসব নির্দেশনা প্রদান করেন। 

পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে মন্ত্রী প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসি ক্যামেরা) স্থাপনের নির্দেশ দেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও যেন পর্যবেক্ষণ ব্যাহত না হয়, সেজন্য বিকল্প হিসেবে আইপিএস ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই প্রযুক্তিগত নজরদারি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণেও বিশেষ সহায়ক হবে। এছাড়া নিরাপত্তা জোরদারে কেন্দ্র সচিবদের ফোন নম্বর ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আনা হবে বলে তিনি জানান।

পরীক্ষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী নির্দেশ দেন যে, উত্তরপত্রে যা লেখা থাকবে, কেবল সঠিক উত্তর যাচাই করেই নম্বর প্রদান করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই পরীক্ষার্থীকে অতিরিক্ত বা কম নম্বর দেওয়া যাবে না। উত্তরপত্র মূল্যায়নের মান নিশ্চিতে নিয়মিত 'স্যাম্পলিং' করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: ‘সপ্তাহে ৩ দিন অফলাইন, ৩ দিন অনলাইন ক্লাস’

দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষকদের পূর্বেও আমি নিরাপত্তা দিয়েছি, এবারও দেব। আপনারা নির্ভয়ে ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করবেন।

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজনের সাফল্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও নকলমুক্ত পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব। প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অতীতে যেমন প্রশ্নফাঁস হয়নি, এবারও তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে স্কুলের বাইরে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের ঘোষণা দেন তিনি। তবে স্কুলের ভেতরে অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে কোচিং করালে শিক্ষকদের জন্য আলাদা সম্মানীর ব্যবস্থা রাখা যাবে বলে জানান। ভবিষ্যতে সারাদেশে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও সভায় উঠে আসে।

পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি না করার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য হলেও এমপিও বাতিল করা হবে না। একটি মেধাবী জাতি গঠনে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কেন্দ্র সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। সভায় শিক্ষকরাও তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়