বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে সামান্য পতন
ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে সামান্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। শক্তিশালী মার্কিন ডলারের অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তার প্রভাবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে দৈনিক ভিত্তিতে দাম কমলেও সাপ্তাহিক ব্যবধানে মূল্যবান এই ধাতুটি এখনো ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম আজ ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,৭৫২.৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একইভাবে মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সেও পতন দেখা গেছে; আগামী জুন মাসের ডেলিভারির জন্য স্বর্ণের দাম ০.৯ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪,৭৭৬.৬০ ডলারে নেমে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের বিনিময় হার শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণের ক্রয়মূল্য বেড়ে যাওয়ায় চাহিদায় এই সাময়িক টান পড়েছে।
আরও পড়ুন: এক দিনেই স্বর্ণের দামে বড় পতন
দৈনিক লেনদেনে কিছুটা পতন সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির খবর হচ্ছে স্বর্ণের সাপ্তাহিক অবস্থান। বিদায়ী সপ্তাহের পুরো হিসাবে দেখা যাচ্ছে, স্বর্ণের দাম প্রায় ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মাধ্যমে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রাখতে সক্ষম হলো, যা দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই ধাতুর শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন স্বর্ণের বাজারকে অস্থির করে রেখেছে। তবে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার আগাম এবং বড় পরিসরে কমানোর যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তা বিনিয়োগকারীদের নতুন করে ভাবাচ্ছে। সাধারণত সুদের হার কমলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে দামকে দীর্ঘমেয়াদে সমর্থন দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির শঙ্কা কাটছে না, ততদিন নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দামে এমন ওঠানামা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








