নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৪৫, ১০ এপ্রিল ২০২৬

৫ শতাংশ বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে অটোরিকশা: সংকটে সাশ্রয় নীতি

৫ শতাংশ বিদ্যুৎ গিলে খাচ্ছে অটোরিকশা: সংকটে সাশ্রয় নীতি

ছবি: নিউজবাংলাদেশ

বিশ্বজুড়ে অস্থির জ্বালানি বাজার আর দেশের অভ্যন্তরে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার মাঝে নতুন এক সংকটের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের প্রায় ৫ শতাংশই ব্যয় হচ্ছে এসব রিকশার ব্যাটারি চার্জে, যার একটি বড় অংশই সরবরাহ করা হচ্ছে অবৈধ উপায়ে। এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা গেলে অন্তত ৩০ লাখ সাধারণ পরিবারের আঁধার কাটানো সম্ভব হতো বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যয় হচ্ছে এই খাতে, যা দিয়ে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ লাখ সাধারণ পরিবারের দৈনিক চাহিদা পূরণ করা সম্ভব ছিল বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ কোটি ৯২ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। গড়ে একটি পরিবার দৈনিক ৬ থেকে ৭ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে এই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে প্রায় ৩২ লাখ পরিবারকে স্বাভাবিকভাবে সেবা দেওয়া যেত।

কিন্তু বাস্তবে এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ মূলত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চার্জিংয়ে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার বড় অংশই অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সরকার ইতোমধ্যে অফিস, আদালত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাটারিচালিত রিকশার অনিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ ব্যবহার সরকারের এই সাশ্রয়ী উদ্যোগকে ব্যাহত করছে। তাদের দাবি, এই খাতে বিদ্যুতের বড় অংশই অবৈধভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালিতে অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৬০ লাখের বেশি অটোরিকশা চলাচল করছে, যার মধ্যে শুধু ঢাকাতেই রয়েছে প্রায় ২০ লাখ। প্রতিটি রিকশায় সাধারণত ৪ থেকে ৬টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়, যা চার্জ হতে গড়ে ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে আবাসিক সংযোগ ব্যবহার করে কিংবা বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধ সংযোগ (হুকিং)-এর মাধ্যমে। ফলে আবাসিক গ্রাহকদের ওপর চাপ বাড়ছে এবং সিস্টেম লসের অজুহাতে সাধারণ ভোক্তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন।

ঢাকার বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অবৈধ চার্জিংয়ের চিত্র আরও বিস্তৃত বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ৮টি জোনে প্রায় ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট এবং ৯৯২টি অবৈধ গ্যারেজ চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ গ্যারেজ ও চার্জিং পয়েন্ট পাওয়া গেছে মিরপুর এলাকায়। সেখানে ৩ হাজার ৯৮৩টি চার্জিং পয়েন্ট এবং ২৫৯টি অবৈধ গ্যারেজ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ওয়ারী, গুলশান, উত্তরা ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায়ও হাজার হাজার অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে প্রতিদিন ব্যাটারি চার্জ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান সতর্ক করে বলেন, ঢাকার দৈনিক প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চাহিদার মধ্যে যদি ৫০০ থেকে ৭০০ মেগাওয়াট শুধু অটোরিকশা খাতেই ব্যবহৃত হয়, তবে আসন্ন গরমে ভয়াবহ লোডশেডিং পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়