স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২২:০০, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংবিধানে ফিরছে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা’, পাস হলেই হবে গণভোট

সংবিধানে ফিরছে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা’, পাস হলেই হবে গণভোট

ছবি: সংগৃহীত

আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের বিল উত্থাপন হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির আহ্বায়ক সালাউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে সংবিধানের মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদের গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির তৃতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে কমিটি।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, মতবিনিময় সভায় জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, বিভিন্ন সাংবাদিক ফোরামের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তারা সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে তফসিল এবং জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে বিস্তারিত মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। অনেকেই লিখিত প্রস্তাবও দেবেন। এসব প্রস্তাব ও আলোচনার ভিত্তিতে একটি রিপোর্ট ও পুস্তিকা প্রণয়ন করা হবে।

তিনি জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনাসহ বেশ কিছু অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হতে পারে। এসব পরিবর্তনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী গণভোটের প্রয়োজন হবে।

সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সম্পাদকদের অনেকেই বিরোধী দলের সদস্যদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। আমরাও এর সঙ্গে একমত। তাদের আমরা বারবার আহ্বান জানিয়েছি এবং এখনো জানাচ্ছি। তারা কমিটিতে যোগ দিলে আমরা স্বাগত জানাব। আমরা চাই, আমাদের মধ্যে কোনো বিভক্তি না থাকুক। ঐকমত্যের ভিত্তিতেই আমরা কাজ করতে চাই।

গণভোট প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হওয়ায় ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। সংবিধানে এমন কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, যার মধ্যে প্রস্তাবনা, ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ অনুচ্ছেদ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হলে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে জনগণের গণভোট নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। বিল পাসের পর এই সাংবিধানিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সুরক্ষায় গণভোটের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য তারা ১৭ বছর আন্দোলন করেছে। ভবিষ্যতের কোনো সংসদ যেন সহজে এ ব্যবস্থা বাতিল করতে না পারে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলো সংশোধনের ক্ষেত্রেও গণভোটের প্রয়োজন হবে এমন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংবিধান সংশোধনে অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে কমিটির আহ্বায়ক বলেন, আমাদের অগ্রাধিকার হলো জুলাই জাতীয় সনদ। তবে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ম্যান্ডেট পাওয়া বিষয়গুলোও আমরা ধারণ করব।

তিনি বলেন, সংবিধানে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এটি সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ৮ অনুচ্ছেদে যুক্ত করেছিলেন। এটি আমাদের ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিবলেন তিনি।

সংবিধান সংশোধনের সময়সীমা সম্পর্কে সালাউদ্দিন আহমদ জানান, ডিসেম্বরের মধ্যেই সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপনের জোর প্রচেষ্টা চলছে। ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয় থেকে একটি বিল প্রণয়ন করা হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী বছরের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষণ কার্যক্রম যুগোপযোগী করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

এরপর বিলটির ওপর আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনী শেষে তা পাস হলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটের মাধ্যমে সংশোধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়