লাইফস্টাইল ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:০২, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ অবিবাহিত দিবস

আজ অবিবাহিত দিবস

প্রতীকী ছবি

বিয়ে কবে করছেন?-বয়স বাড়ার সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে এমন প্রশ্ন শুনতে হয় অনেককেই। কেউ হাসিমুখে এড়িয়ে যান, কেউ বিরক্ত হয়ে প্রসঙ্গ পাল্টান। আবার অনেকের কাছে বিয়ে না করে নিজের পছন্দ ও স্বপ্ন অনুযায়ী জীবন কাটানোই স্বস্তির।

অবিবাহিত মানুষের জীবনযাপন ও পছন্দকে উদ্‌যাপন করতেই পালিত হচ্ছে জাতীয় অবিবাহিত দিবস। অবিবাহিত থাকা এখন অনেকের কাছেই শুধু একা থাকার বিষয় নয়; বরং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া, ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া এবং পরিবার-বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোরও একটি জীবনধারা।

যেভাবে এলো অবিবাহিত দিবস
অবিবাহিত জীবন উদ্‌যাপনের ধারণার শুরু যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৮৪ সালে দেশটির ওহাইও অঙ্গরাজ্যের বাকআই সিঙ্গেলস কাউন্সিল জাতীয় অবিবাহিত সপ্তাহ চালু করে। বিয়ে ও ভালোবাসাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আয়োজনের পাশাপাশি অবিবাহিতদের জন্যও উদ্‌যাপনের সুযোগ তৈরি করা ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালে কারেন রিডের উদ্যোগে ১১ জানুয়ারি জাতীয় অবিবাহিত দিবস চালু হয়। ১/১১-এর সংখ্যাগত বিন্যাসকে অবিবাহিত জীবনের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে তারিখটি নির্ধারণ করা হয়েছিল।

২০১৭ সালে দিবসটির উদ্যোক্তারা এটিকে জাতীয় অবিবাহিত সপ্তাহের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় পূর্ণ সপ্তাহে অবিবাহিত সপ্তাহ এবং ওই সপ্তাহের শেষ শনিবার জাতীয় অবিবাহিত দিবস পালনের প্রচলন শুরু হয়।

বদলেছে দৃষ্টিভঙ্গি
একসময় বিশেষ করে নারীদের বিয়ে না করাকে সামাজিকভাবে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা হতো। সময়ের সঙ্গে সেই দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে। এখন অনেক নারী ও পুরুষই নিজেদের পছন্দে অবিবাহিত থাকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

কেউ ক্যারিয়ার গড়তে ব্যস্ত, কেউ নিজের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ হয়তো জীবনসঙ্গীর প্রয়োজনই অনুভব করছেন না। ফলে অবিবাহিত মানেই অসুখী বা একাকী এমন ধারণা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

ইতিহাসেও অবিবাহিত থাকার উদাহরণ রয়েছে। ইংল্যান্ডের রানি প্রথম এলিজাবেথ দীর্ঘদিন বিয়ে নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে থাকলেও শেষ পর্যন্ত অবিবাহিত ছিলেন। প্রায় ৪৫ বছর শাসনকালে তিনি নিজের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা ধরে রেখেছিলেন।

গবেষণায় কী বলছে
অবিবাহিত জীবন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পরিচালিত গবেষণায় ভিন্ন ধরনের তথ্য উঠে এসেছে। জার্মানিতে ১৯ বছর ধরে পরিচালিত একটি গবেষণায় বিয়ে, একসঙ্গে বসবাস ও প্রেমের সম্পর্কের সঙ্গে সাপ্তাহিক শারীরিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণাটি প্রকাশিত হয় সামাজিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসা সাময়িকীতে।

আরেকটি গবেষণায় পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগের সঙ্গে শারীরিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সামাজিকভাবে যুক্ত থাকার সঙ্গে শারীরিক কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক পাওয়া যায়। বিশেষ করে বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এ সম্পর্ক আরও স্পষ্ট ছিল।

ঘুমের বিষয়টিও গবেষকদের নজরে এসেছে। বৈবাহিক অবস্থা ও জাপানি কর্মজীবীদের ঘুমের সম্পর্ক শীর্ষক এক গবেষণায় ৭৮৬ জন কর্মজীবীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে বৈবাহিক অবস্থার সঙ্গে ঘুমের সময়, মান ও ঘুমের ছন্দের সম্পর্ক পাওয়া যায়। তবে এ গবেষণা থেকে অবিবাহিতদের ঘুম সবসময় ভালো এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

পরিবারের কাঠামো ও পরিবেশ নিয়েও গবেষণা হয়েছে। সুইডেনের পরিবারগুলোর কার্বন নিঃসরণ নিয়ে এক গবেষণায় সন্তান থাকা ও সন্তানহীন পরিবারের মধ্যে কার্বন নিঃসরণের পার্থক্য পাওয়া যায়। তবে এ তথ্যের ভিত্তিতে সরাসরি অবিবাহিত জীবনকে পরিবেশবান্ধব বলা যায় না।

যুক্তরাষ্ট্রে কোটি কোটি অবিবাহিত
২০২৩ সালের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী ১২ কোটি ৭০ লাখের বেশি অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ নারী এবং ৪৭ শতাংশ পুরুষ।

এই অবিবাহিত মানুষের ৫৬ শতাংশেরও বেশি জানিয়েছেন, তারা অগত্যা প্রেমের সম্পর্ক বা জীবনসঙ্গী খুঁজছেন না। অর্থাৎ অবিবাহিত মানেই সঙ্গীর অপেক্ষায় থাকা এমন ধারণাও সবার ক্ষেত্রে সত্য নয়।

নিজের মতো করে উদ্‌যাপন
জাতীয় অবিবাহিত দিবস উপলক্ষে নিজের জন্য সময় দেওয়া যেতে পারে। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, রাতের খাবার কিংবা এক কাপ কফির আয়োজনও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। কেউ চাইলে দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত ভ্রমণেও বেরিয়ে পড়তে পারেন।

একাই ঘুরতে যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, সিনেমা দেখা, বই পড়া কিংবা পুরোনো কোনো শখ পূরণ করার জন্যও দিনটি হতে পারে উপলক্ষ।

চাইলে অন্যের জন্যও দিনটি উৎসর্গ করা যায়। দাতব্য প্রতিষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করা, প্রবীণদের সময় দেওয়া কিংবা গাছ লাগানোর মতো সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া যেতে পারে।

কারণ অবিবাহিত মানেই একা নয়। পরিবার, বন্ধু কিংবা পছন্দের মানুষদের নিয়েও পরিপূর্ণ জীবন কাটানো সম্ভব। সুখের সংজ্ঞাও সবার জন্য এক নয়।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও কেন বাড়তে পারে ওজন, জেনে নিন ৭ কারণ

বিয়ে করা কিংবা না করা দুটিই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। নিজের জীবনকে ভালোবাসা, স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিজের সিদ্ধান্তকে সম্মান করাও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়