স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও কেন বাড়তে পারে ওজন, জেনে নিন ৭ কারণ
ছবি: সংগৃহীত
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া মানেই ওজনের কাঁটা দ্রুত নিচের দিকে নামবে, এমনটা নয়। বাড়িতে রান্না করা খাবার, ফল ও শাকসবজি নিয়মিত খাওয়া এবং ফাস্টফুড এড়িয়ে চলার পরও কারও কারও ওজন ধীরে ধীরে বাড়তে পারে।
এর পেছনে খাবারের পরিমাণ, ঘন ঘন নাস্তা করা, শারীরিক কার্যকলাপের ঘাটতি, অপর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ, হরমোনজনিত সমস্যা কিংবা কিছু ওষুধের প্রভাব থাকতে পারে। আবার শরীরে পানি জমা বা পেশির পরিমাণ বাড়লেও ওজনের কাঁটায় তার প্রভাব পড়তে পারে।
১. স্বাস্থ্যকর খাবারও বেশি পরিমাণে খাওয়া হতে পারে
পুষ্টিকর খাবারও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি জমতে পারে। বাদাম, বীজ, পিনাট বাটার, অ্যাভোকাডো, গোটা শস্য, পনির ও রান্নার তেলের মতো খাবার পুষ্টিকর হলেও এগুলোতে তুলনামূলক বেশি ক্যালোরি থাকতে পারে।
যেমন, সালাদে অতিরিক্ত বাদাম বা ড্রেসিং যোগ করলে খাবারটি স্বাস্থ্যকর থাকলেও মোট ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। তাই শুধু খাবারের ধরন নয়, পরিমাণের দিকেও নজর রাখা জরুরি।
ধীরে খাওয়া এবং ক্ষুধা ও পেট ভরে যাওয়ার অনুভূতির প্রতি মনোযোগ দেওয়া অতিরিক্ত খাওয়া এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
২. স্বাস্থ্যকর নাস্তাও অতিরিক্ত হয়ে যেতে পারে
গ্রানোলা, প্রোটিন বার, স্মুদি, শুকনো ফল ও দইয়ের মতো খাবার পুষ্টিকর হতে পারে। তবে এগুলোতেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যালোরি থাকতে পারে।
সারাদিনে বারবার অল্প অল্প করে খাওয়ার অভ্যাস থাকলে মোট ক্যালোরির পরিমাণ অজান্তেই বেড়ে যেতে পারে। তাই খাবার খাওয়ার আগে নিজেকে প্রশ্ন করা যেতে পারে সত্যিই ক্ষুধা লেগেছে, নাকি একঘেয়েমি, মানসিক চাপ কিংবা হাতের কাছে খাবার থাকার কারণে খাওয়া হচ্ছে?
৩. আগের তুলনায় শারীরিক কার্যকলাপ কমে যেতে পারে
ওজন নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম করলেও দিনের বড় একটি অংশ যদি বসে, গাড়িতে বা সোফায় কাটে, তাহলে সামগ্রিক ক্যালোরি ব্যয় কমে যেতে পারে।
হাঁটা, সিঁড়ি ব্যবহার, ঘরের কাজ করা এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকার মাঝে নিয়মিত বিরতি নেওয়ার মতো ছোট ছোট অভ্যাস দৈনন্দিন শারীরিক কার্যকলাপ বাড়াতে পারে।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া
ঘুমের ঘাটতি ওজন নিয়ন্ত্রণকে কঠিন করে তুলতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা ও তৃপ্তির সঙ্গে সম্পর্কিত হরমোনের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ক্ষুধা বাড়া বা বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এ ছাড়া ঘুমের অভাবে দিনের বেলায় ক্লান্তি বাড়তে পারে, যার কারণে শারীরিক কার্যকলাপও কমে যেতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।
৫. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ
দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপও ওজনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কেউ কেউ চাপের সময় বেশি খাবার খান, বিশেষ করে চর্বি, চিনি বা ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে।
মানসিক চাপ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং ব্যায়াম বা শারীরিক কার্যকলাপের আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। স্ট্রেসের সঙ্গে কর্টিসল হরমোনের সম্পর্ক থাকলেও শুধু কর্টিসলের কারণেই ওজন বাড়ে এমন সরল ব্যাখ্যা ঠিক নয়। খাদ্যাভ্যাস, ঘুম, শারীরিক কার্যকলাপ ও সামগ্রিক শক্তির ভারসাম্যও এতে ভূমিকা রাখে।
৬. হরমোনজনিত সমস্যা বা কিছু শারীরিক অসুস্থতা
ক্রমাগত বা অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি সবসময় খাদ্যাভ্যাসের কারণে হয় না। কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যাও ওজন বাড়াতে বা ওজন কমানো কঠিন করে তুলতে পারে।
যেমন, থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে গেলে ক্লান্তি, ঠান্ডা লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ওজন বৃদ্ধির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS)-এর সঙ্গেও ওজন বৃদ্ধি বা ওজন কমাতে অসুবিধার সম্পর্ক থাকতে পারে।
এ ছাড়া কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, স্টেরয়েড ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও ওজনকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই অস্বাভাবিক বা ক্রমাগত ওজন বাড়লে এবং এর সঙ্গে অন্য উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৭. ওজন মাপার যন্ত্র সবসময় পুরো চিত্র দেখায় না
শরীরে পানি জমা, বেশি লবণ খাওয়া, হরমোনের ওঠানামা, কোষ্ঠকাঠিন্য কিংবা পরিপাকতন্ত্রে খাবার থাকার কারণেও প্রতিদিনের ওজন কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।
আবার শক্তি প্রশিক্ষণ শুরু করলে শরীরের চর্বি কমার পাশাপাশি পেশির পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে শরীরের গঠন পরিবর্তিত হলেও ওজন খুব বেশি কম নাও হতে পারে।
তাই একটি দিনের ওজনের পরিবর্তনের বদলে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার দিকে নজর দেওয়া ভালো। কোমরের মাপ, পোশাকের ফিটিং, শারীরিক সক্ষমতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সূচকও শরীরের পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর খাবার সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হলেও ওজন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করে না। খাবারের পরিমাণ ও নাস্তার অভ্যাসের পাশাপাশি শারীরিক কার্যকলাপ, ঘুম, মানসিক চাপ, ওষুধ, হরমোন ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থাও ওজনের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন: আজ স্ত্রীর প্রশংসা দিবস, প্রিয় মানুষটিকে বলুন ধন্যবাদ
তাই স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও যদি অস্বাভাবিক বা ক্রমাগত ওজন বাড়তে থাকে, বিশেষ করে অন্য কোনো উপসর্গ দেখা দিলে, কারণটি বুঝতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








