স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:৫৬, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই উত্তপ্ত কাঁচাবাজার

জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই উত্তপ্ত কাঁচাবাজার

ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীর কাঁচাবাজারে। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে পটোল, ঢ্যাঁড়শ, বেগুন, ঝিঙা, ধুন্দল ও করলাসহ কয়েকটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বাড়তি পরিবহন ব্যয়কে দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়াকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কোনো কোনো ব্যবসায়ী প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় বেশি দাম বাড়াচ্ছেন। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফেরার আগেই নতুন করে চাপ বাড়ছে ভোক্তার ওপর।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

দাম বাড়ার পর থেকেই বিভিন্ন পণ্যের পরিবহন ব্যয় বেড়েছে বলে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন। এর প্রভাব ইতোমধ্যে কিছু নিত্যপণ্যের বাজারেও দেখা গেছে। এবার রাজধানীর কাঁচাবাজারেও এর প্রভাব দৃশ্যমান হচ্ছে। সাম্প্রতিক বাজার পরিদর্শনেও বেগুনসহ বিভিন্ন সবজির দাম বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সপ্তাহ আগে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া লম্বা বেগুন এখন বাজারভেদে ১০০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজির পটোল ও ঢ্যাঁড়শের দাম বেড়ে হয়েছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। করলা আগে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও এখন মানভেদে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ঝিঙা, ধুন্দলসহ আরও কয়েকটি সবজির দামও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা নঈম আহমেদ বলেন, পরিবহন খরচ বেড়েছে। পাইকারি বাজারে সবজির দামও বেড়েছে। আমাদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়ছে।

রায়হান আলী নামের আরেক ব্যবসায়ী বলেন, মাদারীপুর থেকে যাত্রাবাড়ীতে বেগুন আসে। তেলের দাম বাড়ার আগে মাঝারি ট্রাকের ভাড়া ছিল প্রায় ১৮ হাজার টাকা। এখন সেটা ২১ হাজার টাকা হয়েছে। এই বাড়তি খরচ তো পণ্যের দামের সঙ্গে যোগ হবেই।

তবে ক্রেতাদের প্রশ্ন, পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে প্রতি কেজি পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তে পারে। কিন্তু একসঙ্গে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর যৌক্তিকতা কতটা, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

শ্যামবাজারে কেনাকাটা করতে আসা চাকরিজীবী শামীম বলেন, তেলের দাম বেড়েছে, পরিবহন খরচ কিছুটা বাড়বে, সেটা বুঝি। কিন্তু একবারেই কোনো কোনো সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়ে যাবে, এটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। বাজারে নজরদারি না থাকায় যে যার মতো দাম বাড়াচ্ছে।

আরেক ক্রেতা বলেন, আগে যে টাকা নিয়ে বাজারে আসতাম, এখন একই টাকায় অর্ধেক পণ্য নিয়ে ফিরতে হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ার কথা বলে যদি সবকিছুর দাম বাড়তে থাকে, তাহলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে অতিরিক্ত দাম নিচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য, দুই টাকা বাড়ানোর জায়গায় কোথাও কোথাও ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে শিল্প-কারখানা, গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের ব্যয় বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়বে। তবে কোন পণ্যের দাম পরিবহন ব্যয়ের কারণে কতটা বাড়ার কথা এবং বাজারদরের সঙ্গে এর সামঞ্জস্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

এদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না। সরবরাহব্যবস্থায় কোথাও অসঙ্গতি দেখা দিলে তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক অনুমোদন পেল চার ডিজিটাল ব্যাংক

তবে এরই মধ্যে বাজারে বাড়তি চাপের চিত্র দেখা যাচ্ছে। ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও চালের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সবজির বাজারে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। ফলে জ্বালানি তেলের বাড়তি ব্যয়ের প্রকৃত প্রভাব কতটা এবং এর সুযোগ নিয়ে কোথাও অতিরিক্ত দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়