নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:২৮, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অর্থ পাচার ও প্রতারণার আশঙ্কায় ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ

অর্থ পাচার ও প্রতারণার আশঙ্কায় ভারতীয় ইলিশ আমদানি বন্ধ

ফাইল ছবি

মৎস্য অধিদপ্তরের কঠোর সিদ্ধান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশে ইলিশ আমদানির পথ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে গত ২২ সেপ্টেম্বর মোট ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (NOC) বা আইপি বাতিল করা হয়, যার প্রভাব তৎক্ষণাৎ কার্যকর হয়েছে। এর পর থেকেই বেনাপোলসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানির সমস্ত প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্থগিত রয়েছে।

হঠাৎ করে এই অনুমোদনপত্রগুলো বাতিল করা হলেও মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা ও অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় বেশ কিছু জোরালো কারণ উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে আমদানিকৃত কম দামি ভারতীয় ইলিশকে হুবহু দেশীয় বা সুস্বাদু পদ্মার ইলিশ বলে বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা, বাজারমূল্যের তুলনায় অনেক কম দাম দেখিয়ে আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার বা আন্ডার ইনভয়েসিং-এর আশঙ্কা, এবং সর্বোপরি দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে আগ্রহ ধরে রাখা ও স্থানীয় জেলেদের সুরক্ষা প্রদান।

বন্দর ও বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলক অধিক মুনাফার লোভে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। আমদানির সময় প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে মাত্র ৪৮ সেন্ট থেকে সর্বোচ্চ ২ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেখানো হতো। পরবর্তীতে নির্দিষ্ট রাজস্ব বা শুল্ক পরিশোধ করে বন্দর দিয়ে এসব মাছ খালাস করা হতো। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি কেজি প্রায় ৫০০ টাকার মধ্যে আমদানি করা এই ইলিশ বাজারে সুপরিচিত পদ্মার ইলিশ নামে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উচ্চ মূল্যে বিক্রি করা হতো বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

সাধারণ ক্রেতাদের অভিমত, ভারতীয় ইলিশ দেখতে বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের প্রায় কাছাকাছি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছিল। স্বাদে দৃশ্যমান পার্থক্য থাকলেও বাহ্যিক গঠনের মিল থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের দেশি ইলিশ বলে তা ধরিয়ে দিচ্ছিল। সাম্প্রতিক বাজার তদারকি বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও চড়া দামে ভারতীয় ইলিশ বিক্রির দায়ে বেশ কয়েকজন বিক্রেতাকে জরিমানা করা হয়েছিল। 

আরও পড়ুন: আরও ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা ছিল, বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকলে দেশীয় উৎস থেকে ইলিশ আহরণে জেলেদের আগ্রহ ও উদ্যোগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই হঠাৎ সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান ও সংকটের মুখে পড়েছেন দেশের আমদানিকারকরা। 

আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া গণমাধ্যমকে জানান, মৎস্য অধিদপ্তরের চিঠি পাওয়ার পর থেকেই পুরো প্রক্রিয়া থমকে গেছে এবং এতে ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। 

ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারক সৈয়্যদ মহিদুল হক রুবাই আক্ষেপ করে বলেন, হঠাৎ করে আমদানি বন্ধ করায় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমদানির উদ্দেশ্যে আগেই ওপারে আমাদের প্রচুর ইলিশ কেনা ছিল। এখন কম দামে তা অন্য কোথাও ফেরত দিতে হবে। এর বাইরে পূর্বের আমদানি খরচ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক লোকসান তো রয়েছেই।

বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম জানান, মৎস্য অধিদপ্তরের সুস্পষ্ট নির্দেশনার আলোকেই আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। 

তার দেওয়া তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরে মোট ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞার পূর্ব পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মাত্র ৫৩৫ টন ইলিশ দেশে প্রবেশ করেছে। 

এদিকে ১০৩টি অনাপত্তি সনদ পুরোপুরি বাতিল হওয়ার পর অবশিষ্ট কোটা বা অনুমোদনের আওতায় ভবিষ্যতে আর ইলিশ আমদানি করা যাবে কি না, সে বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের পরবর্তী নির্দেশনা ও স্পষ্টগতির অপেক্ষায় দিন গুনছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়