নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩৯, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘জ্বালানির দাম বাড়লেও বাজার স্থিতিশীল থাকবে’

‘জ্বালানির দাম বাড়লেও বাজার স্থিতিশীল থাকবে’

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের বাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাব এবং তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়ে সম্প্রতি বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের ফ্যাক্টরি মাঠে বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এছাড়া একই দিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সভায় বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়লে বিশ্বের অনেক দেশেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানীয় বাজারে প্রতিফলিত হয়। উন্নত ও উন্নয়নশীল অনেক রাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে সেলফ ট্রিগারড বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে জ্বালানির দাম পরিবর্তিত হয়। ফলে সেসব দেশে সকালে পাম্পে গেলেই দাম বাড়তি দেখা যায়। তবে বাংলাদেশে সরকার নির্ধারিত পদ্ধতিতে তা সমন্বয় করা হয় বিধায় মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে কিছুটা আলাদাভাবে দৃশ্যমান ও অনুভূত হয়।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের ব্যয় কিছুটা বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও এর প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কোনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলে আশ্বস্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। 

তিনি জানান, সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন ও সচল রাখার ওপর সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় পণ্য আমদানি, পরিবহন, বন্দর থেকে খালাস এবং পাইকারি থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত কোথাও কোনো অসংগতি বা জটিলতা রয়েছে কি না, তা চিহ্নিত করে দ্রুত তা সমাধানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: টিসিবির ভর্তুকি ৪-৫ বছরের মধ্যে শূন্যে নামিয়ে আনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

সম্প্রতি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ-তে (FSRU) যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটেছিল। তবে বর্তমানে সেই সমস্যা পুরোপুরি নিরসন করা হয়েছে এবং গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় ভোজ্যতেল (সয়াবিন), চিনি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানিকৃত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকারী কারখানাগুলো পূর্ণ উদ্যমে উৎপাদনে ফিরেছে। পর্যাপ্ত উৎপাদন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অব্যাহত থাকলে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে বাজারে কোনো অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট যাতে কৃত্রিম সংকট বা অযৌক্তিকভাবে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। 

তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতির চাপ এড়াতে বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হয়েছে। সরকারের সুনির্দিষ্ট নজরদারির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং তা জনগণের সাধারণ ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থাকবে।

অনুষ্ঠানে চা-শ্রমিকদের মাঝে এক হাজার ৯৮০টি রেইনকোট বিতরণের পর তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, চা বাগানগুলোকে লাভজনক ও টেকসই করার লক্ষ্যে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাগানের সামগ্রিক আয় বৃদ্ধি করতে চা গাছের কোনো ক্ষতি না করে কাঠ ও মসলাজাতীয় গাছ লাগানোর পাশাপাশি যেসব বাগানে সম্ভব সেখানে সৌরবিদ্যুৎ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাগানের আয় বাড়লে শ্রমিকদের মজুরি আরও ভালোভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়াও শ্রমিকদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি অঞ্চলে একাধিক বাগান মিলে একটি করে দ্রুতগতির অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু করা হচ্ছে, যাতে মুমূর্ষু রোগীদের দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা যায়। চা বাগান এলাকায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপন, কমিউনিটি ক্লিনিক বা হেলথ সেন্টার নির্মাণ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাঁচা রাস্তাঘাট সংস্কারের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে।

সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা এবং চা বাগান ব্যবস্থাপক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়