জেলা সংবাদদাতা || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১১:৫৬, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বন্যার ধকল পেরিয়ে চট্টগ্রামে প্রায় শেষ আমন আবাদ

বন্যার ধকল পেরিয়ে চট্টগ্রামে প্রায় শেষ আমন আবাদ

ছবি: সংগৃহীত

বন্যার ধকল, জমিতে পানি জমে থাকা এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া বীজতলার আশঙ্কা পেছনে ফেলে চট্টগ্রামে আমন আবাদ প্রায় শেষ করে এনেছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলার কৃষিজমিতে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ আমনের চারা রোপণ করা হয়েছে। ভাদ্রের হালকা বৃষ্টিতে রোপণ করা চারাগুলোও সজীব হয়ে উঠেছে। মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে সবুজের সমারোহ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে এবার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১০০ শতাংশ। ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে আমন আবাদ।

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় কৃষিক্ষেত্র রাঙ্গুনিয়ার গুমাইবিলে ইতোমধ্যে আমনের চারা রোপণ শেষ হয়েছে। এখন ধীরে ধীরে আমনের গুচ্ছ পরিপক্ব হয়ে উঠছে। পুরো বিলজুড়ে বাতাসে দুলছে সবুজ পাতা।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, পটিয়া, আনোয়ারা, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠও সবুজে ছেয়ে গেছে। সম্প্রতি সরেজমিনে পটিয়ায় দেখা যায়, কৃষকরা ধান রোপণের পর জমিতে প্রথম দফার সার প্রয়োগ করছেন। কোথাও কোথাও চলছে আগাছা পরিষ্কারের কাজও।

পটিয়ার হাইলধর এলাকার কৃষক সৈয়দ নূর বলেন, আমি প্রতি বছর ৫ কানি (দুই একর) জমিতে ধান চাষ করি, এবারও তা-ই করেছি। এবার বর্ষা খুব ভালো যাচ্ছে। ফুল বর্ষা থাকায় পানির সংকট হচ্ছে না। জমি একবার শুকাতে না শুকাতেই আবার বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় আমন রোপণ ভালো হয়েছে। এবার ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো চারা রোপণ, প্রয়োজনীয় সার ও বীজের সরবরাহ এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তার কারণে এবার আমন আবাদ দ্রুত এগিয়েছে। বন্যার পরও চারা নিয়ে কৃষকদের বড় ধরনের সংকটে পড়তে হয়নি। সরকারি পক্ষ থেকে দ্রুত পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সময়মতো মাঠে ফিরতে পেরেছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারেও আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। জেলায় এবার ১৮ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে হাইব্রিড, উফশী ও স্থানীয় জাত মিলিয়ে ১৮ হাজার ৪২২ হেক্টর জমিতে ইতোমধ্যে আমনের চারা রোপণ হয়েছে। আবাদের অগ্রগতি ৯৯ শতাংশ।

নোয়াখালীতে আমন আবাদের চিত্র আরও এগিয়ে। সেখানে এবার আমন আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ফেনীতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৬৬ হাজার ৮৯৪ হেক্টর। এর বিপরীতে ইতোমধ্যে ৬৬ হাজার ৮৩৭ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।

পাঁচ জেলার মধ্যে লক্ষ্মীপুরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আবাদ সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে। সেখানে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আমন আবাদের অগ্রগতি হয়েছে ১১৭ শতাংশ। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে আমন আবাদ হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমনের ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা, অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষকদের আগ্রহের কারণে অনেক জমিতে পরিকল্পনার বাইরেও আমন আবাদ হয়েছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আমন মৌসুমে চারা সংকট তৈরি হলে আবাদ পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে এবার সরকারি উদ্যোগে চারা উৎপাদন ও বিতরণ এবং স্থানীয়ভাবে কৃষকদের প্রস্তুত করা বীজতলার কারণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা নিজেদের বীজতলা থেকে চারা সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয় নার্সারি ও কৃষি বিভাগের সহায়তাও পেয়েছেন। ফলে জমি প্রস্তুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক কৃষিবিদ আপ্রু মারমা বলেন, আমন মৌসুমের শুরুতে বন্যার কারণে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে পানি নেমে যাওয়ার পর কৃষকরা দ্রুত জমি প্রস্তুত করেন। প্রয়োজনীয় সার, বীজ ও চারা সরবরাহ নিশ্চিত থাকায় রোপণ কাজে বড় ধরনের ছন্দপতন হয়নি। আবহাওয়াও এখন পর্যন্ত আমনের জন্য সহায়ক থাকায় দ্রুত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন: কৃষক পর্যায়ে সারে অনিয়ম ও অতিরিক্ত দাম নিলে কঠোর ব্যবস্থা

সাতকানিয়ার এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, এবার সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় হলো কৃষকদের মধ্যে আমন আবাদ নিয়ে আগ্রহ কমেনি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং অনেক এলাকায় চারা ও বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে চারা সংকট তৈরি হয়নি। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শের পাশাপাশি সারসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই আবাদ লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে। সূত্র: বাসস

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়