নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:৩১, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ বিশ্ব গন্ডার দিবস

আজ বিশ্ব গন্ডার দিবস

ছবি: সংগৃহীত

আজ ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গন্ডার দিবস। গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা এই প্রাণী সংরক্ষণে মানুষকে উৎসাহিত করতে প্রতিবছর দিনটি পালিত হয়। ২০১১ সাল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে ২২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব গন্ডার দিবস পালন করা হচ্ছে।

প্রায় পাঁচ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে টিকে আছে গন্ডার। তবে মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে প্রাণীটি। অবৈধ শিকার, আবাসস্থল ধ্বংস এবং প্রজননের সুযোগ কমে যাওয়ায় বিশ্বে সব মিলিয়ে প্রায় ২৭ হাজার গণ্ডার টিকে আছে। পাঁচ প্রজাতির মধ্যে চারটিই কোনো না কোনো মাত্রায় বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।

বর্তমানে পৃথিবীতে গণ্ডারের পাঁচটি প্রজাতি রয়েছে। এগুলো হলো- সাদা গন্ডার, কালো গন্ডার, সুমাত্রান গন্ডার, জাভান গন্ডার ও একশৃঙ্গ গন্ডার। সাদা ও কালো গন্ডার আফ্রিকায় এবং অন্য তিন প্রজাতি এশিয়ায় পাওয়া যায়।

আন্তর্জাতিক গন্ডার ফাউন্ডেশনের ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, বন্য পরিবেশে সাদা গন্ডার রয়েছে প্রায় ১৫ হাজার ৭৫২টি এবং কালো গন্ডার প্রায় ৬ হাজার ৭৮৮টি। একশৃঙ্গ গন্ডার সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৭৫টি। জাভান ও সুমাত্রান গন্ডারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বিশেষ করে সুমাত্রান গন্ডার বিলুপ্তির অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে।

গন্ডারের অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি অবৈধ শিকার। মূলত শিংয়ের জন্য শিকারিরা গণ্ডার হত্যা করে। গন্ডারের শিং কেরাটিন নামের উপাদানে তৈরি, যা মানুষের চুল ও নখেও রয়েছে।

গন্ডারের শিং বিভিন্ন প্রচলিত চিকিৎসায় ব্যবহারের দাবি থাকলেও এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। এরপরও শিংয়ের চাহিদার কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক গন্ডার অবৈধ শিকারের শিকার হচ্ছে।

গন্ডারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ানোও কঠিন। আফ্রিকান গন্ডারের গর্ভধারণের সময় প্রায় ১৬ মাস এবং সাধারণত দুই থেকে তিন বছর পরপর একটি বাচ্চা জন্ম দেয়। ফলে অতিরিক্ত শিকার বা অন্য কোনো কারণে সংখ্যা কমে গেলে তা দ্রুত পূরণ করা সম্ভব হয় না।

তবে গন্ডার সংরক্ষণে আশার খবরও রয়েছে। বিভিন্ন সংরক্ষণ উদ্যোগের ফলে কিছু অঞ্চলে কালো গন্ডার ও একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা বেড়েছে। আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকায় গন্ডারকে তাদের পুরোনো আবাসস্থলে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগও চলছে।

বিশ্ব গন্ডার দিবসে গন্ডারের আবাসস্থল রক্ষা, অবৈধ শিকার বন্ধ, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

একসময় আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে গন্ডারের বিচরণ ছিল। বর্তমানে তারা মূলত আফ্রিকার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের সুরক্ষিত এলাকা এবং এশিয়ার কয়েকটি দেশে সীমিত হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ৩ মাস পর পর্যটক-জেলেদের জন্য খুলল সুন্দরবন

প্রায় ২৭ হাজার গন্ডারকে টিকিয়ে রাখতে অবৈধ শিকার বন্ধের পাশাপাশি নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা এবং বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রজাতিগুলোর সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়