নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:২১, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহতদের দেখতে হাসপাতালে দুই মন্ত্রী

আশুলিয়ায় সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আহতদের দেখতে হাসপাতালে দুই মন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় অবস্থিত প্রীতি কম্পোজিট টেক্সটাইল লিমিটেডের কারখানা চত্বরে ভয়াবহ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহত ও দগ্ধ শ্রমিকদের খোঁজখবর নিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের বিছানার পাশে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তার সঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে বিস্ফোরণের এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিক নজরুল ইসলামের পরিবারের হাতে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নগদ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি আহত ও চিকিৎসাধীন অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকেও সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান ও পূর্ণ সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়।

হাসপাতাল পরিদর্শনের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে এই হতাহতদের পাশে দাঁড়াতে তারা হাসপাতালে ছুটে এসেছেন। 

তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগের প্রাক্কালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তেও প্রধানমন্ত্রী তাকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক ও বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে পুরো পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারগুলোর পাশে থাকার জোরালো অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

ড. মঈন খান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের যেকোনো বিপদে অতীতেও পাশে ছিলেন, আজও আছেন এবং ভবিষ্যতেও তাদের পাশে থাকবেন। বর্তমান এই সংকটময় ও কঠিন সময়ে সরকার প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত ও পবির্ত্ত পরিবারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সহযোগিতা করে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় আগুন, নিহত ৭

একইসঙ্গে চিকিৎসাধীন দগ্ধ ও আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিহতদের আত্মার মাগফিরাত ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে কলকারখানা ও কর্মক্ষেত্রে মালিকপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও অধিক সতর্ক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আশুলিয়ার এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হতাহতদের সর্বাঙ্গীন সুরক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর। আহতদের উন্নত ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিহত নজরুল ইসলামের পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে নগদ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরও জানান, এই আকস্মিক দুর্ঘটনার মূল কারণ এবং এর পেছনে কোনো অবহেলা বা ত্রুটি ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই তদন্ত কমিটির আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দোষীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের সকল শিল্প কারখানায় শ্রমিকের নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও কর্মক্ষেত্রের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ব্যবস্থাপকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

হাসপাতালগুলো পরিদর্শনের সময় দুই মন্ত্রীর সঙ্গে শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ঘন ঘন এ ধরণের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং কলকারখানাগুলোতে নিয়মিত সেফটি বা নিরাপত্তা অডিট পরিচালনার জোরালো দাবি উঠেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়