নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:০৪, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের মহাসড়ক অবরোধ

ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের মহাসড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত ১০ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবিলম্বে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিচ্যুত ব্যাংকার ও তাদের অধিকার রক্ষা আন্দোলনের কর্মীরা। একই সঙ্গে ঢাকায় সচিবালয় এলাকার কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের লাঠিপেটা ও হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান তারা। 

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটিয়া উপজেলার কাগজীপাড়া মডেল মসজিদ ও বাইপাস এলাকা সংলগ্ন মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী ও সাধারণ চালকরা।

আন্দোলন ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশের ব্যাংক খাত সংস্কারের নামে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে অব্যাহতি বা পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যে শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকেই ১০ হাজারের বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। এসব কর্মী দীর্ঘদিন ধরে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসলেও দৃশ্যমান কোনো সমাধান না পাওয়ায় সম্প্রতি তারা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে পটিয়ায় মহাসড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।

দুপুর ১টা ১০ মিনিট থেকে পৌনে দুইটার মধ্যে আন্দোলনকারীরা দলবদ্ধভাবে পটিয়ার কাগজীপাড়া মডেল মসজিদের সামনে এসে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেন। তাদের এই আকস্মিক অবস্থানে মহাসড়কের দুই পাশে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী শত শত বাস, ট্রাক, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস আটকা পড়ে। দীর্ঘ কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হওয়ায় তীব্র গরম ও রোদের মধ্যে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের গাড়ির ভেতরে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আন্দোলনকারীরা ব্যাংকিং খাতে বৈষম্যমূলক আচরণ বন্ধ এবং বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুতদের কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই দ্রুত পূর্বের পদে ফিরিয়ে নেওয়ার জোরালো দাবি জানান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যাংকার মো. মাশরাফ, মো. তৌকির, জয়নাল আবেদিন, সাইফুল, দিদারুল আলম এবং কানুন উদ্দিনসহ অন্যান্যরা জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অপরাধ বা প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়াই অন্যায়ভাবে তাদের চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ঢাকায় ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে আন্দোলনরত সহকর্মীদের ওপর পুলিশের হামলা ও লাঠিপেটার অভিযোগ করে তারা পটিয়াতেও পুলিশি বাধার মুখে পড়ার দাবি করেন। 

আরও পড়ুন: ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুতদের মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, আহত ২০

তাদের দাবি অনুযায়ী, পটিয়ায় শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকা অবস্থায় পুলিশের লাঠিপেটায় তাদের ৮ থেকে ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের বিষয়ে কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত না আসলে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।

এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে মহাসড়ক বন্ধ থাকার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পটিয়া থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের একটি দল। পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহলে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবে মহাসড়ক থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানান। 

পুলিশের পক্ষ থেকে লাঠিপেটার অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশ্বাসে এবং দীর্ঘ দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর দুপুর আড়াইটার দিকে আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে পার্শ্ববর্তী সড়কে চলে যান। এর পরপরই ট্রাফিক পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রচেষ্টায় মহাসড়কে আটকে থাকা যানবাহনগুলো ধীরে ধীরে গন্তব্যের দিকে রওনা হলে পটিয়া অংশে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে স্বাভাবিক হয়।

অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া ছাঁটাই ও কর্মী অসন্তোষ কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং পুরো আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। 

এর আগে দেশের প্রথমসারির বিভিন্ন জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়োগ পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে তার রেশ ধরে ঢালাওভাবে কর্মী ছাঁটাইয়ের ফলে ব্যাংকগুলোতে এক ধরনের পেশাদার জনবলের সংকট তৈরি হয়েছে। 

অন্যদিকে, ভুক্তভোগী বেকার হওয়া তরুণ ও অভিজ্ঞ ব্যাংকারদের আইনি সুরক্ষা এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পর্যালোচনামূলক নীতিমালা প্রণয়নের তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। অন্যথায় এ ধরনের সড়ক অবরোধ ও আন্দোলন সাধারণ মানুষের জনজীবনকে আরও বেশি বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়