সাবেক হাইকমিশনার সাইদা মুনাসহ পরিবারের ৪ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
ছবি: সংগৃহীত
প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে চলমান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের মধ্যে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, তার স্বামী জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী এবং পরিবারের আরও দুই সদস্যের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অন্য দুজন হলেন তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী ও সাইদা মুনা তাসনিমের সন্তান আলাতী আজফার চৌধুরী এবং জাভেদ অপগেন হেপেন।
দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের দলনেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম আদালতে এ আবেদন করেন।
দুদকের বক্তব্য অনুযায়ী, অনুসন্ধানাধীন অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তাদের বিদেশগমন ঠেকাতে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়। আদালত আবেদনটি বিবেচনা করে চারজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
আরও পড়ুন: আ. লীগের নিষেধাজ্ঞার বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ
দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয় যে, অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী, তার স্ত্রী সাইদা মুনা তাসনিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন্স লিমিটেড এবং অন্যান্য ১২টি ভুঁইফোড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও নামসর্বস্ব এজেন্সির নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণের নামে আনুমানিক প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। পরবর্তীতে ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হয়, যা বর্তমানে দুদকের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দলের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ও তদন্তাধীন রয়েছে।
এই ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইউসিবিএল, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক ও এবি ব্যাংকসহ বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, অনুসন্ধানের এই পর্যায়ে বিশ্বস্ত সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে যে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গোপনে দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তারা দেশত্যাগ করলে চলমান অনুসন্ধান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে এবং আইনগত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযুক্তদের বিদেশগমন অবিলম্বে রহিত করার জন্য আদালতে আবেদন জানানো হয়।
উভয় পক্ষের শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঋণের নামে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের বিষয়েও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








