নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৪৭, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ পরিবারের 

সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ পরিবারের 

ছবি: সংগৃহীত

সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে তাদের পরিবার।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সাগর-রুনির পরিবারের পক্ষে রুনির ভাই নওশের আলম রোমান এই আবেদন করেন।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর দেওয়া ওই অভিযোগে বলা হয়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক রাত ২টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সারওয়ার (সাগর সরওয়ার) ও এটিএন বাংলার সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মেহেরুন নাহার (মেহেরুন রুনি)। দীর্ঘ ১৪ বছরেও এই হত্যাকাণ্ডের কোনো কিনারা করতে পারেনি সরকার ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো।

থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ব্যর্থ হওয়ার পর হাই কোর্টের নির্দেশে গঠিত উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স এই মামলার তদন্ত করছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা পিবিআই।

কিন্তু টাস্কফোর্স গঠনের পর প্রায় দুই বছর হতে চললেও তদন্তের কোনো অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে লিখিত অভিযোগে বলা হয়, “পরিবারের সদস্যরা চান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারী ও দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনুক এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।”

অভিযোগটি কমপ্লেইন্ট রেজিস্টারভুক্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর ৮ ধারা অনুযায়ী এই মানবতাবিরোধী অপরাধের যথাযথ তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে সেখানে।

এর আগে গত ৩০ অগাস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ট্রাইব্যুনালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়ে নতুন তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। এরপর সাগর-রুনির পরিবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
আরও পড়ুন: বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষায় সরকার সচেতন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সেই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর জোহা বলেছিলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় জব্দ করা র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল আহসানের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ডিজিটাল অংশ পরে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা জব্দ করে। এসব ডিভাইসে ২০০৭ সাল থেকে জিয়াউল আহসানের বিভিন্ন নথি ও সার্ভারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং মুছে ফেলা কিছু ফাইলও উদ্ধার করা হয়েছে।

এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিন থেকে চারজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করার কথা জানান তিনি।

এ বিষয়ে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তানভীর জোহা বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের আগের দিন রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে তখনকার র‌্যাব কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে বলা হয়েছিল, পরদিন একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটবে এবং তাকে সেখানে উপস্থিত থাকতে হবে। পরদিন সকালে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসে।

জোহা বলেন, ওই সময়কার সরকার বা গণমাধ্যম-সংক্রান্ত কোনো স্পর্শকাতর নথি, ডিস্ক, টেপ বা মেমোরি-সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র থাকতে পারে বলে তদন্তে তারা তদন্তে ধারণা পেয়েছেন।

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সে সময় বলেছিলেন, অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে পড়লে তা গ্রহণ করা হবে।

“তদন্তে একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কানেকশন থাকার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে এবং কোনো সামরিক বা র‍্যাব কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

দীর্ঘদিন পর তদন্তে নতুন তথ্য আসায় আশাবাদী হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন সাগর-রুনির ছেলে মাহির সরওয়ার মেঘ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়