স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:২৫, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

লালবাগে মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১

লালবাগে মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর লালবাগে একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলার রুমের পাশের বারান্দার মাটি খুঁড়ে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিন লাখ টাকা ঋণ নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় মো. মাসুম চৌধুরী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের ওই ভবনে অভিযান শুরু করে লালবাগ থানা পুলিশ। দীর্ঘ সময় অভিযান চালানোর পর শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবনের নিচতলার পাশের মাটি খুঁড়ে ওয়াসিম রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের হাতে আটক মাসুম চৌধুরীর দুলাভাই জানান, মাসুম ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসা করতেন। যে ভবনের পাশ থেকে ওয়াসিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ভবনের নিচতলায় মাসুমের পাইকারি কারখানা ছিল।

তার দাবি, প্রায় আট মাস আগে ওয়াসিমের কাছ থেকে মাসুম তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল। পরে টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে ওয়াসিমের সঙ্গে মাসুমের বিরোধ তৈরি হয়।

তিনি জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে পাওনা টাকা চাইতে ওয়াসিম মাসুমের ব্যবসায়িক কক্ষে যান। সেখানে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় মাসুম ওয়াসিমের মাথায় ঘুষি মারেন। পরে ওয়াসিম অচেতন হয়ে পড়ে যান বলে দাবি করেন তিনি।

মাসুমের দুলাভাইয়ের ভাষ্য, পরে ওয়াসিমকে ভবনের পাশের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। শুক্রবার ভোরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের স্ত্রীর ভাই মুরাদ হোসেন জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ওয়াসিমের যোগাযোগ হয়। ওই দিন তিন লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে একটি চেক দেওয়ার কথা ছিল বলেও তারা জানতে পারেন। ওয়াসিমের সঙ্গে মাসুমের ব্যবসায়িক লেনদেনের বিষয়টি তিনি জানতেন বলে জানান মুরাদ।

তিনি বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকেই ওয়াসিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা মাসুমের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। মাসুমের স্ত্রী ওয়াসিমের বিষয়ে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানান। শুধু বলেন, ওয়াসিম বাসায় এসেছিলেন, পরে চলে গেছেন।

পরে ওয়াসিমের সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা লালবাগ থানায় নিখোঁজের অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, ওয়াসিমকে একটি ভবনের নিচতলার পাশের মাটির নিচে চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মুরাদ হোসেনের অভিযোগ, ওয়াসিমের মরদেহ লুকিয়ে রাখতে আট বস্তা মাটি এনে বাসার পাশে তাকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

নিহতের স্বজনদের আরও অভিযোগ, ওয়াসিমকে হত্যার পর তার হাত-পা বেঁধে মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়েছিল। তবে তার শরীরে আঘাতের ধরন, মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে- এসব ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষ হওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন: আবারও খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

তিনি জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর ওয়াসিম রনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিচতলার পাশের মাটির নিচ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ডিসি আরও জানান, এ ঘটনায় মাসুম চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, হত্যার প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়