আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:১৭, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরানের দক্ষিণ উপকূলে দফায় দফায় বিস্ফোরণ

ইরানের দক্ষিণ উপকূলে দফায় দফায় বিস্ফোরণ

ছবি: সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত ও উত্তেজনা চরমে উঠেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় বেশ কয়েকটি এলাকায় গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে হরমোজগান প্রদেশের সিরিক, মিনাব এবং পর্যটন ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ (IRNA) এবং আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত হরমোজগান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাস্ক, সিরিক, মিনাব এবং কেশম দ্বীপের আশপাশের জলপথ ও উপকূলজুড়ে দফায় দফায় গোলাগুলি ও বিস্ফোরণ ঘটে। 

আইআরএনএ জানিয়েছে যে, সিরিকের কয়েকটি সুনির্দিষ্ট এলাকায় শত্রুপক্ষের ছোঁড়া প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র জাতীয় বস্তু আঘাত হেনেছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, অনেকগুলো বিস্ফোরণের শব্দ সরাসরি সমুদ্রের দিক থেকেই ভেসে এসেছে। কেশম দ্বীপে বিকট শব্দ শোনা গেলেও তা সমুদ্র নাকি দ্বীপের অভ্যন্তরীণ কোনো স্থান থেকে ঘটেছে, তা শুরুতে নিশ্চিত করা যায়নি।

আরও পড়ুন: ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে পুরোপুরি পঙ্গু করার হুমকি রুবিওর

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও আনাদোলুর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সাম্প্রতিক এই বিস্ফোরণগুলো গত কয়েক দিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সরাসরি সামরিক সংঘাতেরই বিস্তৃতি। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বিমান ও নৌ অভিযানের অংশ হিসেবে দক্ষিণ ইরানের সিরিক, বান্দার আব্বাস, আহভাজ এবং আগাজরি এলাকায় আইআরজিসির (IRGC) সামরিক অবকাঠামো, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার ও নৌসম্পদ লক্ষ্য করে তীব্র হামলা চালানো হয়েছিল। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম শত ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, গত জুনে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী কোনো শান্তি আনতে পারেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও মার্কিন বাহিনীর মধ্যকার এই সংঘাত কেবল হরমুজ প্রণালি বা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে এক নতুন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সর্বশেষ এই বিস্ফোরণগুলোতে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো হতাহত বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা না হলেও উপকূলীয় অঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়