দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ শতাংশ, নিরক্ষর প্রায় পৌনে চার কোটি
ছবি: সংগৃহীত
দেশে সাক্ষরতার হার বেড়ে ৭৭ দশমিক ০৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে এখনো প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ নিরক্ষর। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৭ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে সাত বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠীর ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ এখনো সাক্ষরতার বাইরে।
নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা ও ঝরে পড়া শিশু এবং শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ রয়েছেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যের ভিত্তিতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোও দেশে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা প্রায় পৌনে চার কোটি বলে জানিয়েছে।
সরকারি সংজ্ঞায় সাক্ষরতা শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জন বা নিজের নাম লিখতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মাতৃভাষায় পড়তে ও তা অনুধাবন করতে পারা, মৌখিক ও লিখিতভাবে বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করা, যোগাযোগ স্থাপন এবং গণনা করার সক্ষমতাকেও সাক্ষরতার আওতায় ধরা হয়।
২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার সরকারি লক্ষ্যের সামনে বিপুলসংখ্যক নিরক্ষর জনগোষ্ঠী বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, এই লক্ষ্য অর্জনে প্রথমে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা জরুরি। এরপর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের সাক্ষরতার আওতায় আনতে হবে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, গত কয়েক দশকে সাক্ষরতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে এখনো প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ নিরক্ষর থাকা বড় চ্যালেঞ্জ। নিরক্ষরতা দূর করতে হলে প্রথমে নিরক্ষর মানুষের হালনাগাদ তালিকা তৈরি করে এলাকাভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে হবে।
এমন বাস্তবতায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য- মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা (লিটারেসি ফর পিপল, দ্য প্ল্যানেট অ্যান্ড প্রসপেরিটি)।
নিরক্ষরতা দূরীকরণে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এখনো একটি বড় জনগোষ্ঠী কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা ও দক্ষতার সুযোগের বাইরে রয়েছে। তাদের কাছে শিক্ষার সুযোগ পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।
আরও পড়ুন: বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকট আ. লীগের অদূরদর্শী নীতির ফল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক (পরিকল্পনা, মনিটরিং ও মূল্যায়ন) ড. ফারুক আহাম্মদ। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে একাধিক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








