স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:০৯, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ১০:৪০, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিঙ্গাপুরে সাবেক সাইফুজ্জামানের সম্পদ ক্রোক, ফ্রিজ ব্যাংক হিসাবও

সিঙ্গাপুরে সাবেক সাইফুজ্জামানের সম্পদ ক্রোক, ফ্রিজ ব্যাংক হিসাবও

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে সিঙ্গাপুরে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ (অবরুদ্ধ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সিঙ্গাপুরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রাতিষ্ঠানিক অনুরোধপত্র পাঠানোর অনুমতিও দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের উপপরিচালক ও তদন্ত দলের প্রধান মো. মশিউর রহমান আদালতে আবেদনটি করেন।

আবেদনে বলা হয়, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার সহযোগী ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে দুদক, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সমন্বয়ে নয় সদস্যের একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।

টাস্কফোর্সের অনুসন্ধানে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিঙ্গাপুরে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে আটটি ব্যাংক হিসাব, একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালকের পদ এবং দামি স্থাবর সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের এসবিসি ব্যাংকে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের যৌথ নামে তিনটি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ হিসাব রয়েছে। এ ছাড়া ফার্স্ট আবুধাবি ব্যাংক পিজেএসসি, সিটিব্যাংক (যুক্তরাষ্ট্র) ও ডিবিএস ব্যাংকেও বিভিন্ন হিসাব ও আমানতের তথ্য পাওয়া গেছে। এসবের মধ্যে আরামিট প্রপার্টিজ লিমিটেড, জেডটিএস প্রপার্টিজ লিমিটেড ও নিউ ভেঞ্চারস (লন্ডন) লিমিটেডের নামে বিনিয়োগও রয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, জাসা ওশান পিটিই লিমিটেড নামে একটি সিঙ্গাপুরি প্রতিষ্ঠানে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১১ সালের ১৫ মার্চ থেকে ২০১৯ সালের ৩ মে পর্যন্ত পরিচালক ছিলেন।

এ ছাড়া নথিতে সিঙ্গাপুরে থাকা একটি অভিজাত স্থাবর সম্পত্তির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৯ সালের ৭ জুন ১৬ লাখ ১২ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারে কেনা ওই সম্পত্তিটি সাইফুজ্জামান চৌধুরীর প্রত্যক্ষ মালিকানাধীন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, গোপন সূত্রে টাস্কফোর্স জানতে পেরেছে, অভিযুক্তরা সিঙ্গাপুরে থাকা তাদের স্থাবর সম্পত্তি দ্রুত হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করছেন। এসব সম্পদ হস্তান্তর বা পাচার হয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন: নুসরাত হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হাইকোর্টের

এ অবস্থায় সিঙ্গাপুরে থাকা স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাবগুলো অবিলম্বে ফ্রিজ করা প্রয়োজন বলে আদালতে আবেদন করা হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা অনুরোধ (এমএলএআর)-এর আওতায় সিঙ্গাপুরের বিচারিক ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানোর অনুমতি চাওয়া হয়। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়