ভেনিসে বাঁধনের ওপর হামলায় শোবিজ অঙ্গনে তীব্র নিন্দা
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে ইতালিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন স্থানীয় একটি পার্কে হামলার ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত চলচ্চিত্র দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড-এর প্রদর্শনী ও উৎসবে অংশ নিতে তিনি বর্তমানে পরিবারসহ ইতালির মেস্ত্রে শহরে অবস্থান করছেন।
সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লাইভ ভিডিওবার্তায় ও পরবর্তীতে পোস্ট করা ভিডিওর মাধ্যমে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
বাঁধনের অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাতে তিনি তার ভাই ও পরিবারের ছোট সদস্যকে নিয়ে স্থানীয় একটি পার্কে বেড়াতে গেলে একদল প্রবাসী বাঙালি তার ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা তার গায়ে পানি, কোমল পানীয় ও ডিম ছুড়ে মারে এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এ সময় তার হাত থেকে মোবাইল ফোন ফেলে দেওয়া হয় এবং কানের পাশে আঘাত করা হয়।
হামলার সময় তার ভাইয়ের ছোট শিশুসন্তান সঙ্গে ছিল এবং সে ভয়ে চিৎকার করতে থাকে। আক্রমণকারীরা নিজেদের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী এবং বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা বাঁধনকে জোর করে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করে এবং পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ ও প্রচারের অপচেষ্টা চালায়। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে রাজপথে সরব উপস্থিতি ও সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে জুলাই জঙ্গি ট্যাগ দিয়ে এ আক্রমণ চালানো হয় বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনি স্থানীয় থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (কম্পলেইন) দায়ের করেছেন।
প্রতিকূল এই পরিস্থিতির মুখেও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে বাঁধন বলেন, আমাকে দমানো এত সহজ নয়। আজ আপনারা বিশ্ববাসীকে দেখিয়ে দিলেন যে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী একজন অভিনেত্রীকে কীভাবে হেনস্তা করা হলো।
এই বর্বরোচিত ঘটনার পর বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগৎ, সংস্কৃতি অঙ্গন এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। দেশের প্রথমসারির তারকারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাঁধনের পাশে দাঁড়িয়ে এর কঠোর বিচার দাবি করেছেন:
আরও পড়ুন: ইতালিতে হেনস্তার শিকার বাঁধন, ফেসবুক লাইভে যা বললেন
পরীমনি: ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করে জনপ্রিয় এই চিত্রনায়িকা ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “বেশি কিছু না। কতগুলো কুকুরের বাচ্চা রাস্তায় ঘেউ ঘেউ করছে। এদের কাছে মানুষের বাচ্চার কান্না কিছুই ম্যাটার করে না। করেও নাই।”
সাফা কবির: নিজের ভেরিফায়েড পেজে দীর্ঘ পোস্টে সাফা কবির বলেন, আমি ভীষণভাবে মর্মাহত, ক্ষুব্ধ এবং লজ্জিত। একজন শিল্পী যখন দেশের বাইরে চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের দেশ ও শিল্পকে প্রতিনিধিত্ব করতে যান, তখন তার প্রাপ্য সম্মান ও নিরাপত্তা। কোনো শিল্পীরই এমন আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যাওয়া উচিত নয়। শিল্পীর কণ্ঠ ও নিরাপত্তা কখনোই রাজনীতির মূল্য হতে পারে না।
মৌসুমী হামিদ: তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এই অভিনেত্রী লেখেন, এই দেশে শিল্পী হওয়াটাও পাপের। কারণ শিল্পীরাই দেখি সবচেয়ে বড় রাজনীতিবিদ হিসেবে কথা বলছেন। ৩২ নম্বর কিংবা ভেনিস যেখানেই হোক না কেন, শিল্পীর ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আশফাক নিপুন ও অন্যান্য তারকারা: চলচ্চিত্র নির্মাতা আশফাক নিপুন এটিকে চরম লজ্জাজনক ও বর্বর উল্লেখ করে দ্রুত আইনি সহায়তা কামনা করেছেন। এছাড়া অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম, সাদিয়া জাহান প্রভা, অভিনেতা ও উপস্থাপক শাহরিয়ার নাজিম জয়, মডেল ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুলসহ অনেকেই এই মব জাস্টিস ও সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এ ঘটনাকে অক্ষম্য অপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে চরম বর্বরতা বলে আখ্যায়িত করেছেন। এছাড়া ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) প্রধান সংগঠক সারজিস আলম এবং মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গও এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।
তারা বলেন, পরাজিত শক্তির এই ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি কোনোভাবেই জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে দমন করতে পারবে না। ইতালির স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








