ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার বিস্ফোরণে নিহত ১০, আহত ৬
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ও ভারী যানচলাচলবহুল মহাসড়কে জ্বালানিবাহী ট্যাংকারের ভয়াবহ সংঘর্ষ ও পরবর্তী বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় প্রাথমিক হিসাবে ১০ থেকে ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ছয় থেকে সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের রাজধানী সানান্দাজ এবং হামেদান কাউন্টির সংযোগকারী কৌশলগত হামেদান-সানান্দাজ মহাসড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় ও জরুরি চিকিৎসাসেবা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামেদান থেকে মারিভানের দিকে যাওয়ার পথে ট্যাংকারটির ব্রেকিং সিস্টেমে হঠাৎ মারাত্মক কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়। এর পরপরই ট্যাংকারটিতে প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
আরও পড়ুন: বলিভিয়ায় সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ, নিহত ১০
সানান্দাজ শহরের গভর্নর এবং কুর্দিস্তান ইউনিভার্সিটি অব মেডিকেল সাইন্সের জরুরি সেবার প্রধান বাবাক হোদাই জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তীব্র আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে বিস্ফোরণের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে নিহতদের মরদেহগুলোর পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সানান্দাজের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। ইরানের ন্যাশনাল অয়েল প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি জানিয়েছে, ব্রেকিং সিস্টেমে ত্রুটির বিষয়টি প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হলেও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিশেষজ্ঞ দল নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানে জ্বালানি ট্যাংকার, বাস কিংবা ভারী যানবাহনের এ ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। দেশটির বেহাল ও দুর্বল সড়কব্যবস্থা, পুরোনো যানবাহনের বহর এবং ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগের ঘাটতিকে এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। এর আগে ২০১৮ সালের জুলাই মাসেও সানান্দাজের কাছাকাছি এলাকায় যাত্রী তোলার জন্য থেমে থাকা একটি বাসের পেছনে জ্বালানিবাহী ট্যাংকার সজোরে ধাক্কা দিলে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনুন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে ইরানে সড়ক দুর্ঘটনার হার বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি। এছাড়া তেহরানভিত্তিক সংবাদপত্র ফাইন্যান্সিয়াল ট্রিব্যুন-এর এক পুরোনো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, দেশটিতে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় কুড়ি হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং প্রায় আট লাখ মানুষ আহত হয়ে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশটির মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ফিটনেসবিহীন ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এই প্রাণহানির মিছিল থামানো কঠিন হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








